কুমিল্লায় জুমার নামাজের খুৎবার আগে দ্বিতীয় আজান মসজিদের ভেতরে নাকি বারান্দায় দেওয়া হবে এ নিয়ে মুসল্লিদের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আবু হানিফ খান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কুড়াখাল গ্রামের বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু হানিফ উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কুড়াখাল গ্রামের আবদু খানের ছেলে। এ ঘটনায় মসজিদে জুমার নামাজ পণ্ড হয়ে যায় এবং এলাকায় বিবদমান রেজভীয়া ও সুন্নি গ্রুপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ শাহীন ভূঁইয়া (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সন্ধ্যায় বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়াখাল বাইতুন নূর জামে মসজিদের ভেতরে ইমামের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ যাবৎ খুৎবার আগে দ্বিতীয় আজানের (সানি আজান) প্রথা চালু ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে স্থানীয় রেজভীয়া গ্রুপের সিদ্ধান্তে মসজিদের বারান্দায় খুৎবার আজান চালু করা হয়। এ নিয়ে এলাকার সুন্নি পক্ষের মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। শুক্রবার তাজুল ইসলাম খান নামের এক ব্যক্তি মসজিদের বরান্দায় আজান দিতে গেলে এর প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক মাস্টারের সঙ্গে সহ-সভাপতি হাবিব খান তর্কবিতর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে মুসল্লিদের দুইপক্ষ ছুরি, লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে জুমার নামাজ পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় দুইপক্ষের সংঘর্ষে মসজিদের ভেতর ও বরান্দা রক্তাক্ত হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে আহত আবু হানিফ খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুরাদনগর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত আবুল খায়ের (৪৮) ও ইমন খানকে (২৪) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপর আহতদের মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মসজিস কমিটির সহ-সভাপতি হাবিব খান বলেন, দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর যাবত মসজিদে জুমার নামাজে খুৎবার আগে দেওয়া আজান ঈমামের সামনেই দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু রেজভীয়া গ্রুপ বরান্দায় আজান দেওয়ার প্রথা কেন চালু করেছে। তার প্রতিবাদ করতেই পরিকল্পিতভাবে একদল লোক রামদা, লোহার রড, লাঠিসোটা নিয়ে মুসল্লিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, আজান নিয়ে বিরোধে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শাহীন ভূঁইয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।