প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুর। একপর্যায়ে তা নিয়ে দু'জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। এরপর তাদের একজন অন্যজনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয় ওই নারীর পরিবারকে। তখন আত্মসম্মান বাঁচাতে গৃহবধূর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই তরুণকে 'সরিয়ে' দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক খুন করা হয় তাকে।

এক বছর দুই মাস আগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মো. রাসেল নামে এক তরুণের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে শুক্রবার এসব কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

খুন হওয়া তরুণের নাম মো. রাসেল (১৯)। সে উপজেলার পাবুরিয়াচালা এলাকার জমির আলীর ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তারা হলো- পাবুরিয়াচালা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে মো. রানা, আবদুল হকের ছেলে মো. হেলাল ও মুক্তার হোসেনের ছেলে মো. কাউছার। তাদের মধ্যে রানা বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা জানায়। বাকিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।

পিবিআই জানায়, রাসেল ও রানা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। রাসেলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল ওই নারীর। একপর্যায়ে রানারও সম্পর্ক হয় তার সঙ্গে। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। তখন রানা বিষয়টি ওই নারীর দেবর কাওসারকে জানায়। এরপর পরিবারের মানসম্মান রক্ষার জন্য রানার সঙ্গে যুক্তি-বুদ্ধি করে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তাদের পরিকল্পনা ওই নারীকেও জানানো হয়। গত বছরের ১০ জুলাই দুপুরে ওই নারী ফোন করে রাসেলকে গজারি বনের ভেতরে ডেকে নেয়। তার কথা মতো রাসেল বনের ভেতরে যান। সেখানে ওতপেতে থাকা রানা, কাওসার ও হেলাল প্রথমে শ্বাসরোধে রাসেলকে হত্যা করে। পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য লাশ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে গজারি গাছের সঙ্গে লাশ হেলান দিয়ে বসিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

২০২০ সালের ১০ জুলাই নিখোঁজ হন রাসেল। এ ঘটনায় চার দিন পর তার বাবা শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর এক দিন পর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতর রাসেলের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর রাসেলের বাবা জমির আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৪ অক্টোবর শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রায় পাঁচ মাস তদন্ত করে থানা পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।