কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে শনিবার দুপুরে আরও এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জোয়ারের পানিতে লাশটি ভেসে আসে। সৈকতে উদ্ধার কর্মীদের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মনিরুল গিয়াস জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁর নাম অভ্র (২৫)। তিনি যশোর শহরের লালদীঘির পাড় এলাকার মিজান আল ফরাজীর ছেলে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে সৈকতের সিগাল পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছিল রাফিদ ঐশিক (২৮) নামের আরও এক পর্যটকের লাশ। রাফিদ এবং আজ উদ্ধার হওয়া অভ্র দুজনে বন্ধু। যশোর থেকে তারা সাত বন্ধু মিলে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন।

ওসি আরও জানান, যশোর থেকে আসা পর্যটক দলটি শুক্রবার সকালে শহরের কলাতলীর একটি হোটেলে ওঠে। দুপুরের দিকে তারা সৈকতে যায়। এই সময়ে দুই বন্ধু রাফিদ ও অভ্র সাগরের পানিতে গোসল করতে নামে। অন্যরা বালিয়াড়িতে বসে আনন্দ উপভোগ করছিল। এক পর্যায়ে তারা রাফিদ ও অভ্রকে দেখতে না পেয়ে খুজঁতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ৩টার দিকে বিচ কর্মীরা রাফিদকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুরে সৈকতের নাজিরার টেক পয়েন্টে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে অভ্রর মৃতদেহ।

ওসি মনিরুল গিয়াস জানিয়েছেন, দুই পর্যটক পানিতে ডুবে মারা গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে শুক্রবার বেলা ১টার দিকে সৈকতের সিগাল পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে মো. ইমন (১৮) নামের এক তরুণের লাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী চন্দ্রিমা মাঠ এলাকার আবুল কালামের ছেলে। সৈকতে পানিতে ডুবে নাকি অন্য কোনো কারণে এই তরুণের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এছাড়া কলাতলী এলাকায় বে ওয়ান ডাচ নামের একটি হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে রাফসানুল হক (৩২) ও সাইমুল প্রিয়াম (২৫) নামে দুই পর্যটকের। তাদের মধ্যে রাফসানের মৃতদেহ শুক্রবার বিকেলে হোটেল থেকে উদ্ধার হয়। তার বন্ধু সাইমুল প্রিয়ামকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা গেছেন। দুই পর্যটকের বাড়ি চট্টগ্রাম শহরের এনায়েত বাজার এলাকায়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কী কারণে এই দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার দুপুর ও বিকেলে সৈকতের সিগাল পয়েন্টে ভেসে আসে দুজনের লাশ। রাতে দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। আজ দুপুরে ভেসে আসে অভ্র নামে অপর এক পর্যটকের মৃতদেহ।