ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া আরেক শিক্ষকের লাশ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার ২৫ দিন পর রোববার শরীয়তপুরের জাজিরার মঙ্গলমাঝি সাত্তার মাতবরের ঘাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট ট্রলারডুবির ওই ঘটনায় নিখোঁজ হন দুই শিক্ষক। তাদের মধ্যে আজমল হোসেন শেখ নামের এক শিক্ষকের লাশ পাওয়া যায় ১ সেপ্টেম্বর। আরেক শিক্ষক আলমগীর হোসেন (৪০) এতদিন নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল তার লাশ মেলে।

আলমগীর হোসেন ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ইকরা মাতুবরের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুস সালাম শেখের ছেলে। আলমগীর হোসেনের দুই মেয়ে রয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাশটি নদীতে ভাসতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এলাকাবাসী। পরে নৌপুলিশ ও জাজিরা থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। 

মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মঈনুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে জাজিরা থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

জাজিরা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, আলমগীরের বুকে জন্মদাগ দেখে তাকে শনাক্ত করেন তার স্ত্রী। পরে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শিক্ষক আলমগীরের ভাতিজা জিয়াউল হক জানান, রোববার রাত ১১টায় চরমাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে লাশ দাফন সম্পন্ন হবে।

গত ২৫ আগস্ট বিকেলে ফরিদপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষক একটি ট্রলার ভাড়া করেন। শিক্ষকরা প্রথমে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চাঁদের বিল ঘুরে পদ্মা নদী দিয়ে মদনখালী এলাকায় যান। ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে মাঝিসহ ১৬ জন ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ জন শিক্ষক ও মাঝিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুই শিক্ষককে তখন পাওয়া যায়নি।