বাগেরহাটে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনী সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা, সংঘর্ষসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বাগেরহাটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট চলছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে সোমবার বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

মাসুদ রানা লালন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমার কর্মী-সমর্থকদের চাপ দিচ্ছিল নৌকার সমর্থকরা। পরে আমার এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়।'

ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া, ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকটি জায়গায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার মোট ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে ভোট হচ্ছে ৬৫টি ইউনিয়নে। কারণ কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা।