সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের স্কুলশিক্ষক শেফালী খাতুন। দরিদ্র প্রসূতি ও অসহায় রোগী পরিবহনে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছেন তিনি। দুই বছর ধরে চলা তার এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই শতাধিক রোগী সেবা নিয়েছেন।

শেফালী উপজেলার নগর ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের ময়লাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি মেরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

শেফালী খাতুন জানান, ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা কাজ করত। পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজে স্নাতকে পড়া অবস্থায় চাকরি হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মনের মধ্যে কাজ করত কিছু একটা করার। গ্রামের মানুষ অসুস্থ অবস্থায় সময় মতো হাসপাতালে যেতে পারত না। বিষয়টি তাকে কষ্ট দিত। তার স্কুলের পাশে এক মুদি দোকানি ছিলেন। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কথা হতো তার সঙ্গে। হঠাৎ শোনেন সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারার কারণে মারা গেছেন তিনি। বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দেয়। ২০১৪ সালে বিয়ের পর বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি উৎসাহ দেন। সেই থেকে টাকা জমিয়ে ২০১৯ সালে স্বামীর সহযোগিতায় তিন লাখ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন ড্রাইভার নিয়োগ করে সেবা কার্যক্রম চালু করেন তিনি। স্বামী ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বার বিল বোর্ডে দেন, যাতে প্রয়োজনে মানুষ যোগাযোগ করতে পারে। এ পর্যন্ত ২৪০ জনকে এ সেবা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাড়িটি পুরোনো হওয়ায় মাঝেমধ্যেই মেরামত করতে হয়। মেরামতেই অনেক খরচ হয়। এ ছাড়া নাটোর সদর হাসপাতাল পর্যন্ত রোগী পৌঁছানো সম্ভব হয়। রাজশাহী মেডিকেল পৌঁছানোর দরকার হলে আর সম্ভব হয় না।

জালোড়া গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, 'আমার বাবা কভিডে আক্রান্ত হলে আতঙ্কে তাকে হাসপাতালে নিতে কোনো গাড়ি রাজি হচ্ছিল না। অবশেষে শেফালী খাতুনের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাবাকে। তার কারণে সে যাত্রায় প্রাণে বাঁচাতে পেরেছিলাম বাবাকে। আমরা কৃতজ্ঞ তার কাছে।

পাঁচবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর রমজান আলী বলেন, আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারলে স্ত্রী-সন্তান দু'জনেরই প্রাণ সংহারের আশঙ্কা ছিল। দরিদ্র মানুষ অ্যাম্বুলেন্স ডাকার সাহসই হচ্ছিল না। অবশেষে শেফালী খাতুনের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় আমার পরিবারের নতুন অতিথি আলোর মুখ দেখেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশাদুজ্জামন বলেন, শেফালী খাতুনের অ্যাম্বুলেন্সে অনেক রোগী আসে হাসপাতালে। এছাড়া কভিড-১৯ শুরুতে স্যাম্পল কালেকশন করে তা সিভিল সার্জন অফিসে পৌঁছানোর কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। শেফালীর অ্যাম্বুলেন্স সেই সেবা দিয়ে সংকট মুহূর্তে সহযোগিতা করেছেন।

বড়াইগ্রামের ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শেফালী খাতুনের এ কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রয়োজনে সহযোগিতা দিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় উৎসাহিত করা হবে।