একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আলবদর কমান্ডার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাহাত্তর বছর বয়সী শহীদুল্লাহ ফকির ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত মৌলভী কমর উদ্দিন ফকিরের ছেলে।  তবে শহিদুল্লাহ ফকির ঢাকার বনানীতে বসবাস করতেন। 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক শাওন চক্রবর্তী বলেন, ‘শহীদুল্লার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার যথেষ্ট স্বাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। আপাতত তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।'

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর দাখিল করা ১১০ নম্বর অভিযোগপত্রে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনাল। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল সরেজমিন তদন্তে গিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে আসেন। মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার আসামি শহীদুল্লাহ আত্মগোপনে থেকে নিজের কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।  বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কালীবাড়ি রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধে অনেক শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী এবং হিন্দুদের হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

ঈশ্বরগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ সমকালকে বলেন, ‘আলবদর কমান্ডার শহীদুল্লাহ মূলত কিশোরগঞ্জের নিতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা, শিমরাইল, সোহাগী, কাছিমপুর, আঠারবাড়ি এলাকায় অনেক শিক্ষক, সরকারি কর্মচারি ও হিন্দুদের হত্যায় নেতৃত্ব দেন কুখ্যাত শহীদুল্লাহ। আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাই।’