খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় হেলে পড়া সাত তলা ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ২০ জন শ্রমিক ভবনের সপ্তম ও ষষ্ঠ তলা ভাঙার কাজ শুরু করে। গত জুন মাসে নির্মাণাধীন ভবনটি দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে।

কেডিএ থেকে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৩ নম্বর সড়কের ১৩২ ও ১৩৩ নম্বর প্লট দুটি বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনকে বরাদ্দ দিয়েছিল কেডিএ। অ্যাসোসিয়েশন প্লট দুটির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য 'অনিক রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। ২০১৬ সালে কেডিএ থেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু শুরু থেকেই অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেনতেনভাবে অতিরিক্ত একটি তলা নির্মাণ করে। এতে ভবনটি দ্রুত ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

সূত্রটি জানায়, কেডিএর প্রকৌশলীরা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান ভবনের নকশায় গ্রেডবিম দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও একটি তলায় কোনো গ্রেডবিম নেই। ভবনের কলামের পরিধিও কমিয়ে দেওয়া হয়। যেনতেনভাবে ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের। গত জুন মাসে ভবনটি হেলে পড়লে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত ও অপসারণ দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটি ভবনটি অপসারণের সুপারিশ করে।

কেডিএর অথরাইজড অফিসার মুজিবর রহমান জানান, ভবনটি দক্ষিণ দিকে ১২ ইঞ্চি পরিমাণ হেলে গেছে। ভবন নির্মাণকাজে দায়িত্বে থাকা লোকজন পালিয়ে গেছে। এজন্য কেসিসির নেতৃত্বাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত ও অপসারণ কমিটি কেডিএকে ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত করতে অনুরোধ জানায়। তিনি জানান, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য কেডিএ নিজ অর্থায়নে ভবন অপসারণ কাজে এগিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার থেকে ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। পরের ৫টি তলা গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনকে ভেঙে ফেলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।