বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেওয়ায় নজরুল ইসলাম নামের এক ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে সাংসদ নিজেই মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দলের নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার পাথরঘাটা শেখ রাসেল স্টেডিয়াম চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিবরণ মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় নজরুলকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন সরকারদলীয় এই সাংসদ। বৃহস্পতিবার বরগুনা প্রেস ক্লাবে এসে নজরুল এসব তথ্য জানান। তিনি পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাথরঘাটা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার পাথরঘাটা শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ রিমন। খেলা শুরুর আগে বিকেলে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে স্টেডিয়ামে আসার সময় খেলোয়াড়দের বহন করা একটি মাইক্রোবাসকে সাংসদের লোকজন সরে যেতে বলে। সড়কের প্রশস্ততা কম থাকায় মাইক্রোবাস চালক সাংসদের মোটরসাইকেল বহরকে সামনে
যাওয়ার জন্য জায়গা দিতে পারছিলেন না। এতে সাংসদ ক্ষুব্ধ হন। ওই মাইক্রোবাসেই ছিলেন নজরুল। পরে সাংসদ মঞ্চে উঠে নজরুলকে ডেকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে সাংসদ তাকে তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন।
পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন, আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নজরুল বলেন, 'এমপি আমাকে মঞ্চে প্রকাশ্যে গালাগাল করে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। আমি তো কোনো অপরাধ করিনি, কেন ক্ষমা চাইব। একজন সাংসদ কীভাবে এই আচরণ করেন? আমি তো আওয়ামী লীগ করি।'
ওই ব্যবসায়ী বলেন, 'সাংসদ মাইক্রোবাসে তাকে দেখেই ক্ষিপ্ত হন। কারণ, তিনি প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর ও তার স্ত্রী বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সুলতানা নাদিরার পক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছিলেন।' তিনি বলেন, 'আমি মারধরের শিকার হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এ ঘটনায় আমি আত্মহত্যা করলে তার জন্য দায়ী থাকবেন সাংসদ রিমন।'
পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন বলেন, সাংসদের এমন আচরণ ঠিক না। তিনি এমন কাজ অহরহ করে থাকেন। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাংসদের দুটি মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।


বিষয় : প্রকাশ্যে মারধর

মন্তব্য করুন