ঐতিহাসিক ২৫ সেপ্টেম্বর আজ। ১৯৭৪ সালের এই দিনে জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় ভাষণ দান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ বছর জাতিসংঘের বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার ইতিহাসে আজকের দিনটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। সেদিন বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষণের মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারে বাংলা ভাষার কথা। জানতে পারে বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি জাতির জন্য রয়েছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ।

বাংলাভাষীদের জন্য এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কোটি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাদের উন্মুখ করে তুলেছিলেন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে। তারও আগে বঙ্গবন্ধু যুক্ত হয়েছিলেন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির আন্দোলনে। বাংলাদেশ নামের সদ্য স্বাধীন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে সেই ভাষাকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন।

সেদিন ভাষণের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু বলেন, 'আজ এই মহামহিমান্বিত সমাবেশে দাঁড়াইয়া আপনাদের সাথে আমি এই জন্য পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির ভাগিদার যে, বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ আজ এই পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করিতেছেন। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পূর্ণতা চিহ্নিত করিয়া বাঙালি জাতির জন্য ইহা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার অর্জন এবং একটি স্বাধীন দেশে মুক্ত নাগরিকের মর্যাদা নিয়া বাঁচার জন্য বাঙালি জনগণ শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী সংগ্রাম করিয়াছেন, তাহারা বিশ্বের সকল জাতির সাথে শান্তি ও সৌহার্দ্য নিয়া বাস করিবার জন্য আকাঙ্ক্ষিত ছিলেন।'

তিনি আরও বলেন, 'যে মহান আদর্শ জাতিসংঘ সনদে রক্ষিত আছে, আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন। আমি জানি, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়িয়া তোলার জন্য বাঙালি জাতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমাদের এই অঙ্গীকারের সাথে শহীদানের বিদেহী আত্মাও মিলিত হইবে।'

এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্য ২০১৯ সাল থেকে 'বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে' হিসেবে পালন করে আসছে। ওই রাজ্যের সিনেটে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বছর তৃতীয়বারের মতো রাজ্যের আইন পরিষদ দিবসটি নবায়ন করেছে।

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের বার্ষিকী উদযাপনে এ বছর নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য একটি ই-পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নিউইর্য়কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে আজ শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন এমপি, বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দীন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন মুক্তধারা, নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশ্বজিত সাহা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাতিসংঘে কর্মরত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম। নিউইয়র্কের রাজনীতিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন এতে।