রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, গোটা দেশে যেসব মিটারগেজ লাইন আছে, পর্যায়ক্রমে এ গুলোকে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মূলত রেল ব্যবস্থা যেখানে সিঙ্গেল লাইন, সেখানে ডাবল লাইন, যেখানে মিটারগেজ, সেখানে ডুয়েলগেজ করা হবে।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা-লাকসাম রেললাইনের ডুয়েলগেজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব কমানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন বছরে কুমিল্লা থেকে এ ব্যাপারে জোরালো আবেদন পাইনি। এখানকার মানুষ রেলপথে ঢাকায় যেতে অনেক দূরত্ব অতিক্রম করে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কুমিল্লা হয়ে ঢাকার দূরত্বও কমে আসবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম খাঁন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।

অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রীর সহধর্মিণী শাম্মী আকতার মনি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল না, সেটিও হাতে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধু সেতুর মধ্য দিয়ে সড়কপথের সঙ্গে রেলসেতুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় রেলসেতুর কাজ চলছে এবং আমরা আশা করছি ২০২৪ সালের মধ্যে এই সেতু দিয়ে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আমরা আশা করছি, আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু সড়ক খুলে দেওয়া হবে।

আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই লাইন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার পথ দিয়ে ডাবল লাইন যোগাযোগ শুরু হয়েছে। লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইনের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার ইতোমধ্যে সমাপ্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, ডাবল লাইন হয়ে গেলে আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন করা হবে। যেখানে ডাবল লাইন আছে কিন্তু ব্রডগেজ নেই, সেখানে ব্রডগেজ হবে। একইভাবে লাকসাম থেকেও চট্টগ্রাম পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারি পর্যন্ত যে মিটারগেজ আছে, সেই অংশটুকুও ব্রডগেজ হবে। এছাড়া দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইনের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সকালে মন্ত্রী কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ের রাজস্ব খাতে স্টেশন মেরামত, আধুনিকায়ন ও রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে লাকসাম স্টেশনের সংস্কার করা প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন। এ সময় লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান  ড. ইউনুছ ভূইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, পৌর মেয়র আবুল খায়ের, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হীরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।