পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বাসর রাতে বরের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে বাড়ির রান্নাঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা, না-কি অন্যকিছু, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত বরের নাম বাবুল হোসেন (২০)। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি চরতিস্তাপাড়া এলাকার সফিজুল ইসলামের ছেলে। শনিবার ভোরে বাড়ির রান্নাঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বোদা উপজেলার বড়শশী দিনবাজার এলাকার সবার উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় বাবুলের। এরপর রাতে বউ নিয়ে বাড়ি ফেরেন বাবুল ও তার সঙ্গে যাওয়া বরযাত্রীরা।

সাবিনার সঙ্গে তার বাড়ি থেকে প্রতিবেশী এক দাদি ও ছোট দুই ভাই-বোনও বাবুলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বাবুলের বাড়িতে রাতে থাকার তেমন জায়গা নেই। দুটি ঘর মাত্র। বিয়ে বাড়িতে আসা অন্য মেহমানরাও ছিলেন।

রাতে কে কোন ঘরে থাকবেন এ নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় বাবুলের। পরে তিনি দাদি শাশুড়ি, এক দুলাভাই ও দুই শিশুসহ একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যান। এরমধ্যেই ভোরে পরিবারের লোকজন বাবুলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ঝুলন্ত মরদেহের পা মাটিতে লেগে ছিল। এটি আত্মহত্যা, না-কি অন্যকিছু, তা তদন্তের আগে বলা ঠিক হবে না।