স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল বেশ আগেই। পারুল বেগম সন্তানকে গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে রেখে সাভারে ফেরি করে পোশাক বিক্রি করতেন। টেনেটুনে দিন চললেও কারও সাতপাঁচে ছিলেন না তিনি। সেই নারীই হলেন খুনের টার্গেট। বাগেরহাটের মোংলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে খুন করা হয় তাকে। খুনি চক্রের এক সদস্য বিয়ের টোপ দিয়ে সাভারের বাসায় ওই নারীকে খুন করে পালিয়ে যায়। ফেলে রেখে যায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল ফোনের নম্বর।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সাভারের বক্তারপুরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। গ্রেপ্তার হয়েছে মূল পরিকল্পনাকারী, খুনি এবং তাদের সহযোগী। তারা হলো- হালিম হাওলাদার, জামাল হাওলাদার ও মশিউর রহমান ওরফে মিলন। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে হালিম হাওলাদার মোংলার চিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার, তার পূর্বপরিচিত জামাল খুনে যুক্ত এবং মিলন সহযোগী।

সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে ওই খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সেখানে পিবিআইর প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, চিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে মেম্বার পদে হালিম হাওলাদারের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিল্লাল সরদার। নির্বাচনের আগে তাকে ফাঁসাতে কাউকে খুনের পরিকল্পনা করে প্রতিপক্ষ হালিম। সে অনুযায়ী পূর্ব পরিচিত জামালকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। জামাল সাভারে তার পরিচিত বন্ধু সাভারে দর্জি দোকানি মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, ভাসমান, দরিদ্র কারও সন্ধান দিতে। সে অনুযায়ী পারুল বেগমের সন্ধান দেয় মিলন। এরপর হালিমের নির্দেশে জামাল সাভারে গিয়ে পারুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে বিয়ের কথা বলে একসঙ্গে বাসা নেয়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওই বাসাতেই জামাল ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে পারুলকে খুন করে পালিয়ে যায়।

পিবিআই প্রধান বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনের পর বিল্লাল সরদারকে ফাঁসাতে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও একটি মোবাইল নম্বর লাশের পাশে রেখে যায়। সেই সূত্র ধরে বিল্লাল সরদারের দিকে নজরদারি চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় হালিম হাওলাদারের সন্ধান।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, খুনের জন্য তাদের পছন্দ ছিল এমন কেউ, যার মৃত্যুতে কোনো চাঞ্চল্য হবে না বা কেউ তদবিরও করবে না। জাতীয় পরিচয় আর ফোন নম্বরের সূত্রে শুধু বিল্লাল সরদারকেই ধরবে।

পিবিআইর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিয়নে নির্বাচনের আগে রহস্য উদ্ঘাটন করা গেলেও সব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে গত রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আসামি বর্তমানে মেম্বার থাকলেও ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। তার প্রতিপক্ষ বিল্লাল সরদারও পরাজিত হয়।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়ে জামাল হাওলাদার ও মিলন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা দু'জনেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে হালিম হাওলাদারের নাম বলেছে। গ্রেপ্তারের পর হালিমও সব স্বীকার করেছে।