বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের তিন দিনের মাথায় মার্কেটের ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টের পূর্ব দিকে আমিন মার্কেটের প্রধান ফটকে এ তালা ঝোলানো হয়।

ওই মার্কেটে খাবার হোটেল, ফার্মেসি, আল্‌-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের শাখাসহ ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মার্কেটের মালিক হাইকোর্টের আইনজীবী আশিক-ই-রসুল ও ডা. মাহবুবুর রসুল এসব তথ্য জানান।

আশিক-ই-রসুল আরও জানান, পৌরসভার শংকর বংশী খালের পূর্ব পাড়ে তাদের সম্পত্তির ওপর ১৯৮৮ সালে ২০০০ বর্গফুটের আমিন মার্কেট স্থাপন করেন। আবদুল কাদের মির্জা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তার অনুমতি নিয়ে মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। মার্কেটে ২০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে খাবার হোটেল, ফার্মেসি ও একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর কাদের মির্জার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ তারা গ্রহণ করে। নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি খালের পাশে ওয়াক ওয়ে রোড নির্মাণের জন্য খাল-সংলগ্ন দোকান-মার্কেট মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে, এজন্য কাগজপত্র নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর মেয়র কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মেয়রের নোটিশ অনুযায়ী, তারা ২০ সেপ্টেম্বর কাগজ নিয়ে নোটিশের শুনানিতে অংশ নেন। আরও অধিকতর কাগজপত্র সংগ্রহ করার জন্য এক মাসের সময় চেয়ে মেয়রের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

তবে মার্কেটে তালা মারার বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে অবহিত করলেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে কাদের মির্জার সঙ্গে কথা বলার জন্য বিকেলে কল দিলেও সাড়া মেলেনি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফ উদ্দিন আনোয়ার বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে কেউ তাকে অবহিত করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।