ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলায় সময় শিশুটিকে হঠাৎ করেই আক্রমণ করে কুপিয়ে গলা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার বিকেলের এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরীফ মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করে। শরীফ পূর্বধুরাইল গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।

নিহত সুমন মিয়া (৭) উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পূর্বধুরাইল গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। 

পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে পূর্বধুরাইল কুদালিয়া খালের পাড়ে খেলতে যায় সুমন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হয় শরীফ মিয়া। এরপর শিশু সুমনকে ধাওয়া দিয়ে পাশের একটি খালে ফেলে দেয় সে। সেখান থেকে উঠে আসার পর দা দিয়ে কুপিয়ে শিশুটির শরীর থেকে গলা বিচ্ছিন্ন করে দেয় শরীফ। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে ভয়ে পালিয়ে যায় সুমনের খেলার সঙ্গী জুনাঈদসহ অন্যরা। শিশুটিকে হত্যার পর রক্তমাখা দা নিয়ে বাড়ি চলে যায় শরীফ। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। শরীফের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দাসহ আটক করা হয়। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

শিশুটির চাচা জাকারিয়া ফকির বলেন, কয়েক দিন আগে সুমনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় শরীফের। ওই সময় হুমকি দিয়েছিল শরীফ। কিন্তু তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন। কিন্তু শরীফ নিজের হুমকি বাস্তবায়ন করেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়ারিছ উদ্দিন সুমন বলেন, শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না। 

হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান খান বলেন, কথাকাটাকাটির জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।