নৌ-রুটে ফেরি স্বল্পতার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দুই থেকে তিন করে পড়ে থাকতে হচ্ছে। এতে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় প্রায় ৭০০ পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পার হলেও ঘাট এলাকায় ট্রাকের কারণে তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, এই নৌ-রুটে চলাচলরত ২০টি ফেরির মধ্যে খানজাহান আলীসহ ৪টি ফেরি বিকল হয়ে আছে। বর্তমানে সেগুলো মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় পড়ে থাকায় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ঘাট এলাকায় যানজট দেখা দেওয়ায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পারাপার করছে। এতে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ২-৩দিন করে ঘাটেই পড়ে থাকতে হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুর থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী একটি ট্রাকের চালক দেদার হোসেন জানান, তিনি বুধবার রাত ৯টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু ফেরি স্বল্পতা ও যানবাহনের চাপের কারণে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ফেরির টিকিট পাননি।

ঢাকার গাজীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ীগামী একটি ট্রাকের চালক আরমান হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন তিনি। কিন্ত শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ফেরির টিকিট পাননি।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, এই নৌ-রুটে চলাচলরত ১০ রো-রো- বড় ফেরি মধ্যে ৭টি রো-রো বড় ফেরি দীর্ঘদিনের পুরোনো। এ ফেরিগুলো কয়েকদিন যেতে না যেতেই বিকল হয়ে পড়েছে। এতে এই নৌ-রুটে ফেরি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ফলে ঘাট এলাকায় গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, এই নৌ-রুটে ফেরি স্বল্পতা ও যানবাহনের চাপ থাকায় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে ট্রাক কম পারাপার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও কোচ পারাপার করা হয়। এই কারণে ঘাট এলাকায় প্রায় সাতশ’ পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে।