করোনা মহামারিতে সারাবিশ্বে মৃত্যু ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ইতোমধ্যে দেশটিতে এ মহামারিতে মৃত্যু ৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। 

বিশ্বজুড়েই এখন টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত ভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ডেলটায় বেশি ধরাশায়ী হচ্ছেন। এর মধ্যেই শুক্রবার বিশ্বে মৃত্যুর অর্ধকোটির দুঃখজনক মাইলফলক ছাড়িয়ে যায় বলে জানায় রয়টার্স। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় সত্যিকারের মৃত্যু এর চেয়ে অনেক বেশি। গত বছর ১১ জানুয়ারি কভিডে চীনে প্রথম মৃত্যু হয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত টিকা থাকার পরও মানুষ টিকা নেওয়া বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোও আছে এ সংকটে। বিপরীতে এশিয়ার দেশগুলো শুরুতে টিকাদানে পিছিয়ে থাকলেও এখন দ্রুত অগ্রগতি সাধন করছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে এখন সপ্তাহে গড়ে যত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার অর্ধেকেরও বেশি ঘটছে ৫টি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল, মেপিকো ও ভারতে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে আবির্ভূত হওয়া কভিডে প্রথম ২৫ লাখ মানুষের মৃত্যুতে সময় লেগেছিল এক বছরের কিছুটা বেশি। আর পরের ২৫ লাখের মৃত্যুতে সময় লেগেছে ৮ মাসেরও কম সময় (২৩৬ দিন)। ভাইরাসটি গত সপ্তাহেও প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার, মিনিটে ৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অবশ্য এ সংখ্যা কয়েক মাস আগের তুলনায় অনেক কম। সাম্প্র্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুহার ধীরে ধীরে কমে আসায় বিশেষজ্ঞ অনেকের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।

গত কয়েক মাসে বিভিন্ন কোম্পানি কোটি কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করলেও দরিদ্র দেশগুলোর অসংখ্য মানুষ এখনও প্রথম ডোজই পায়নি। ধনী দেশগুলো তাদের জনসংখ্যা অনুপাতে কয়েক গুণ টিকার ক্রয়াদেশ দিয়ে রেখেছে। কোনো কোনো দেশ এরই মধ্যে বেশিরভাগ নাগরিককে টিকা দেওয়া শেষে শুরু করেছে বুস্টার ডোজের প্রয়োগ।

'আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা'র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি এখনও টিকার বাইরে। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৬২৭ কোটি ডোজ সরবরাহ হয়েছে। অথচ স্বল্প আয়ের দেশগুলোর মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিতে পেরেছে প্রথম ডোজ।

অতি সংক্রামক ধরন ডেলটায় প্রথম বিপর্যস্ত দেশগুলোর অন্যতম ভারতে এখন দৈনিক মৃত্যু কমতে কমতে ৩০০-তে এসেছে। দেশটি কয়েক মাস আগে দৈনিক চার সহস্রাধিক মৃত্যুও দেখেছে। ভারতে টিকাদানের গতিও অনেক বেড়েছে। দেশটিতে টিকা পাওয়ার উপযুক্তদের প্রায় ৪৭ শতাংশ প্রথম ডোজ পেয়ে গেছে। 

করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন বিশ্বজুড়ে ডেল্টারই একচ্ছত্র আধিপত্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯৪ সদস্য রাষ্ট্রের ১৮৭টিতেই ধরনটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।