কুমিল্লার চান্দিনায় সালমা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয় পুকুরে। শুক্রবার রাতে তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কুপিয়ে ও পরে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। 

শনিবার সকালে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। সালমা আক্তার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারীর মেয়ে। সে পার্শ্ববর্তী বিল্লাল বাজার এলাকার একটি কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত।

কিশোরীর বাবা সোলেমান ব্যাপারী বলেন, কয়েক বছর ধরে তার ভাইয়ের ছেলে শাহ কামাল, শাহ জালাল ও ভাতিজি জামাই ওজায়েরের সঙ্গে জমির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। একটি জমি কিনে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকায় জমি বায়না করে তারা। পরে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিয়ে ওই ১০ হাজার টাকাও ফেরত নিয়ে নেয় এবং কোনো টাকাই দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য মাতবরদের জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ২৫ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীকে মারধর করে ভাতিজারা। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

শুক্রবার তিনি বাড়িতে গেলে ভাতিজারা তার ওপর হামলা করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হলে ১০-১২ জন লোক তার ওপর হামলা করতে ঘিরে ফেলে। প্রাণভয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন ঘরে একাই ছিল তার মেয়ে সালমা। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে তারা আমার মেয়েকে ঘর থেকে বের করে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। সকালে বাড়ির লোকজন পুকুরে সালমার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে জানা গেছে 'জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই কিশোরীর বাবা মামলা করবেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।