এক শিশু অপর এক শিশুর পায়ে সাইকেলের চাকা তুলে দেয়। এ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধের। শিশুদের বিবাদের বিষয়টি প্রথমে মিটিয়ে দিলেও দুই পরিবারের নারীরা পুনরায় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে আহত হয় কয়েকজন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহের ফুলপুরে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের পারতলা গ্রামের জিন্নত আলী ও চাচাতো ভাই আবুল কাশেমের পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধের। গত শুক্রবার বিকেলে জিন্নত আলীর ছেলে আরাফাত (১০) ও প্রতিবেশী চাচাতো ভাই মোরশেদ আলীর ছেলে তাসকিনের (৭) পায়ের ওপর বাইসাইকেলের চাকা পায়ে উঠিয়ে দেয়। এ নিয়ে দুই শিশুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে বড়রা বিষয়টি মিটিয়ে দেন। শিশুদের সেই বিষয় নিয়ে শনিবার দুই শিশুর পরিবারের নারীরা ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এ নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে ইন্নছ আলীর ছেলে রায়হান মিয়া (১৮) গুরুতর আহত হন। এতে আরও আহত হন দুই পরিবারের অন্তত আরও ৫ জন। রায়হান স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ালেখা করতেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে শনিবার রাত ১টার দিকে মারা যান।

এদিকে সংঘর্ষের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের দুইজন আবুল কাশেম ও ইন্নছ আলীকে আটক করেন। পরে তাদের ফৌজধারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় জিন্নত আলী বাদি হয়ে শনিবার রাতে ফুলপুর থানায় একটি মামলা করেন। এতে প্রতিপক্ষের ৯ জনকে আসামি করা হয়। মারামারির অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও হত্যার বিষয়টি সেখানে সংযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফুলপুর থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।