পদ্মায় স্পিডবােট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পিডবোট চলাচল আবারও শুরু হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক পরিচালক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হােসেন সমকালকে জানান, দীর্ঘ ৫ মাস ৪ দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শি স্পিডবােট চলাচল শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১০১টি স্পিডবােট রুটপারমিট ও টাইমটেবিল পেয়েছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের ৫৩টি, মাঝিরকান্দি ঘাটের ১৯টি এবং বাংলাবাজার ঘাট এলাকার মালিকানাধীন ২৯টি স্পিডবােট বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। 

বৃহস্পতিবার এই ১০১টি স্পীডবােট শিমুলিয়া থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ঘাটে চলাচল শুরু করেছে।

স্পিডবোট চালক মো. রাব্বি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে অত্যন্ত খুশি। 

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫ মাস বেকার ছিলাম। অন্য কাজ জানা না থাকায় এতদিন কিছু করিনি।’ 

শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি অবশ্যই খুশি। কারণ, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য এ ঘাট ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। ৫ মাসের উপরে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ছোটবড়ো যেকোনো স্পিডবোটে ১২ জন যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে। আগে বড় স্পিডবোটে ৩২ জন যাত্রী নেওয়া হত।’

শাহাদাত হােসেন জানান, অনিবন্ধিত স্পিডবােটের নিবন্ধন, চালকের যােগ্যতা সনদ ও রুট পারমিট প্রক্রিয়ার পর স্পিডবােট সচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এই বৈধ প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় ছাড়াও সাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দক্ষতা নিশ্চিতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চালকরা সনদপত্র গ্রহণ করেছেন। আর মাদকাসক্ত কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। 

তিনি আরও জানান, ডােপ টেষ্টে ৯ জন চালক মাদকাসক্ত প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ছােট-মাঝারি-বড় ৪০ সিসি থেকে ২০০ সিসি পাওয়ারের চার রকমের স্পিডবােট থাকলেও সব স্পিডবোট এখন ১২ জন করে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক। স্পিডবােটগুলাে চলবে দিনের বেলায়। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে স্পিডবােটের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ১৪৫টির আবেদন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিবন্ধন পেয়েছে ১২৬টি। পাশাপাশি ১২০ চালক পেয়েছে যােগ্যতা সনদ। তবে এ পর্যন্ত টাইমটেবিল অর্থাৎ চলাচলের অনুমতি পয়েছে ১০৯টি।

ঢাকা সদরঘাট অফিসের শিপ সার্ভেয়ার মাে. মামুনুর রশিদ সনদ দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। সনদ পেতে অনেক কাগজপত্র দরকার। কাগজ সঠিক কিনা তা যাচাই-বাছাই করে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলােড দিতে হয়। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সঠিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

চলতি বছর ৩ মে শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাদারীপুরের নাওডোবার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এক স্পিডবােট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটলে তখন থেকে প্রশাসন এ নৌরুট দুটিতে যাত্রীবাহী স্পিডবােট চলাচল বন্ধ করে দেয়। 

এরপর বিআইডব্লিউটিএ এসব স্পিডবােটকে বৈধতা দিতে চালকদের প্রশিক্ষণসহ সার্ভে সদন (স্পিডবোটের ফিটনেস) ও রুট পারমিট দিতে কাজ করে। 

সূত্র জানায়, এই দুইরুটে সাড়ে ৪০০ স্পিডবােট চলাচল করত। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এরমধ্যে কিছু স্পিডবােট বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য স্পিডবােটও বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হবে বলে সূত্র জানায়।