বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে বন্ধ থাকা ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর অনুরোধ করেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার। বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটের ফ্লাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ অনুরোধ জানান তিনি। 

এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঈশ্বরদীতে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনেকেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে ধন্যবাদও জানান। মন্ত্রী পত্নী শাম্মী আক্তার ঈশ্বরদীতে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন এক মসময়।

শাম্মী আক্তার বলেন, 'আগে ঢাকায় এসে তারপর কক্সবাজারের ফ্লাইটে উঠতে হতো। এখন সৈয়দপুর থেকেই বিমানে কক্সবাজার যাওয়া যাবে- এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার একটা দাবি ভাইয়ার (বিমান প্রতিমন্ত্রী) কাছে, আমার নানু বাড়ি ঈশ্বরদী। সেখানে আমার জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে। সেখানকার বিমানবন্দরটি বন্ধ। আমি জানি না কেন বন্ধ। আমি ভাইয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে অনুরোধ জানাই। তাহলে ঈশ্বরদীর মানুষের অনেক উপকৃত হবেন।' 

২০১৪ সালের সর্বশেষ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইট নেমেছিল ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে। এরপর আর কোনো যাত্রীবাহী ফ্লাইট সেখানে অবতরণ করেনি। বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স, পাবনা জেলা প্রশাসক ও ঈশ্বরদীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরেও ৭ বছরে চালু হয়নি বিমানবন্দরটি। 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নথি থেকে জানা গেছে, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর ১৯৪০-১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্থাপিত হয়। ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২০তম বোমারু বাহিনী এ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছিল। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এরপর বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরটি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন চালু থাকার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে আবার বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরটি।