টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে দুই ব্যক্তি। গত ৬ আগস্ট রাতে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘঠনায় অভিযুক্ত মোস্তফা ও মোফাজ্জল হোসেন নামে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, পাশের গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে মোস্তফার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুবাদে পূর্বপরিচয় ছিল ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর। সম্প্রতি ওই ছাত্রী চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে গাজীপুরে তার আত্মীয়ের বাসায় যায়। সেখানে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়েটিকে ফোন করে মোস্তফা। এ সময় সে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আসে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে মোস্তফা তাকে নিজ গ্রাম ঘাটাইলের মুরাইদে নিয়ে আসে। নিজ বাড়িতে না নিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে ওঠে পূর্বপরিচিত মফিজ উদ্দিন মোড়লের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে। রাতটুকু ওই বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে কাটাতে বলে মোস্তফা। পরদিন পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, এই বলে ঘুমাতে যেতে বলে মেয়েটিকে। চাকরির আশায়, সরল বিশ্বাসে ঘুমাতে যায় সে। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে ওই ঘরে প্রবেশ করে মোস্তফা ও মোফাজ্জল। মুখ চেপে ধরে তারা দু'জন ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মোস্তফা ও মোফাজ্জলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দু'জনকে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার মেয়েটি জানায়, সংসারে সচ্ছলতা আনতে পড়ালেখার পাশাপাশি সে চাকরি করতে চেয়েছিল।

ঘাটাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, থানায় মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।