স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। 

শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় গড়পাড়া এলাকায় শুভ্র সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা মানিকগঞ্জ সদর এবং সাটুরিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৭৬টি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনুদান প্রদানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আসন্ন দুর্গপুজায় আনন্দ করবেন, তবে সেটা নিয়ম-কানুন মেনে করবেন। করোনা এখনো চলে যায়নি। আনন্দ করতে গিয়ে আমরা যেন আবার সংক্রমিত হয়ে না পড়ি সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।' পূজায় নিয়ম মেনে আনন্দের পাশাপাশি দেশের কল্যাণে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, 'করোনা ছোঁয়াচে রোগ। দেশে অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। শত বছরের মধ্যে এ ধরনের মহামারি আসেনি। সারাবিশ্বে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। এই সময়ে আমাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। করোনা নতুন একটি ভাইরাস, নতুন তার গতিবিধি। এমন পরিস্থিতিতে শুরু থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা মোকাবেলা করছি।'

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষার জন্য মাত্র একটি ল্যাব ছিল। এখন দেশে ৮০০টি ল্যাব হয়েছে। এখন করোনার চিকিৎসার জন্য দেশের হাসপাতালগুলোতে ১৮ হাজার শয্যা রয়েছে। করোনা আক্রান্ত জটিল রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই খুবই প্রয়োজন। দেশের সব বড় হাসপাতালেই এই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন রয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ায় দেশে করোনায় মানুষের মৃত্যুহার কম। আমেরিকায় ৭ লাখ, ভারতে ৫ লাখ মানুষ করোনায় মারা গেছেন। আর ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের দেশে ২৭ হাজার মানুষ মারা গেছেন। একটি মৃত্যুও আমরা চাই না। কোনো যাদুর ছোঁয়ায় মৃত্যু কম হয়নি, এর পেছনে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমাদের হাতে এখন অনেক টিকা। আমাদের দেশে প্রায় ২৫ ভাগ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ১২ ভাগ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া গেলে পুরো দেশেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। যে পরিমাণ ডোজ অর্ডার দেওয়া হয়েছে তাতে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।'

জাহিদ মালেক আরও বলেন, 'সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় গিয়েছিলাম। সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের বিনামূল্যে ৪০ ভাগ টিকা দেবেন। দেশে টিকা তৈরি করা হলে কারিগরি সহায়তাসহ কাঁচামাল দিয়ে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে।'

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এক দিনে একসঙ্গে কোনো দেশ এতো পরিমাণ টিকা দিয়েছে বলে আমার জানা নেই।'

করোনার সংক্রমণ কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এখন করোনা হার ২ দশমিক ৭ ভাগ। মৃত্যুর হারও কমে এসেছে। তবে করোনার সংক্রমণ বাড়তে তো সময় লাগে না। অনেক দেশে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ছে। এ কারণে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দৈনন্দিন কাজ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করতে হবে।'

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিটি ধর্মই শান্তি ও মানবসেবার কথা বলে। করোনার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের আয়োজকরা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ব্যবস্থা করবেন। আমরা ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করব, তবে তা যেন অতিরঞ্জিত না হয়। কারণ, এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অপ্রীতিকরণ ঘটনা ঘটে।'

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ফটো, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অর্নিবান পাল।