বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশকে নারীদের আঁচল ‍দিয়ে বেঁধে রাখতে বলেছেন তিনি। কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমাদের কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে নারীদের আঁচল দিয়ে ওইসব পুলিশকে বেঁধে রাখবেন। পরে যা হওয়ার তা হবে। তাদের বিরুদ্ধে নারী চরিত্র হননের মামলা দেবো। আসামি ধরতে গেলে আপনারা ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবেন। কোনো অবস্থায় ঘরের দরজা খুলবেন না।’

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টের বঙ্গবন্ধু মুর‌্যালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দের উদ্দেশে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, ঘরে ঘরে গ্যাস ও চাকরি এবং দক্ষিণাঞ্চলের নদী ভাঙন রোধে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কাদের মির্জার অনুসারী মহিলা আওয়ামী লীগ।

এ সময় কাদের মির্জা ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তিনি ভোট আসলে মিষ্টি ভাষায়, সাহিত্যের ভাষায় নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ দুই বছর আপনি কোথায়? আপনি এলাকায় কি এসেছেন? আপনার পিএসকে মাসে একবার পাঠাবেন কোম্পানীগঞ্জ এবং কবিরহাটের খবর নেওয়ার জন্য, সেটাও পাঠাননি। অথচ গত কয়েকদিন আগে বলছেন, গ্যাসের অনুমোদন হয়েছে। ঘরে ঘরে গ্যাস দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর এসপি কত টাকা নিয়েছেন আল্লাহই জানেন! আল্লাহর গজব তার ওপর পড়বে। আজকে কোম্পানীগঞ্জে সরকারি খাল আমি দখলমুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ কত টাকা খেয়েছে জবাব দিতে হবে। এখানে জবাব না দিলে আল্লাহর আদালতে দিবেন। আর যদি আমাদের একটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করে, আপনারা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। আর ছেড়ে দেওয়া হবে না। আজকে এসপি কোম্পানীগঞ্জে যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা আর মেনে নেবো না।’

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে আগামী শনিবার বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগ এবং বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রলীগের উদ্যেগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে আরও কঠিন কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করবো। আমরা ইউএনও অফিস ঘেরাও করবো, আমরা ঢাকাতে সাংবাদিক সম্মেলন করবো, অনশন করবো, মানববন্ধন সহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না।’ তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন যাবত প্রশাসন এখানে দুঃশাসন চালাচ্ছে। আজকে নোয়াখালীর কুখ্যাত এসপি রিমান্ড বাণিজ্য, শ্যোন অ্যারেস্ট বাণিজ্য কাজে সহযোগিতা করছেন। কোম্পানীগঞ্জের ওসি এগুলো করছে। তারপর কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও কোম্পানীগঞ্জের খাস সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, ঘরে ঘরে গ্যাস দেবেন, অথচ এখন পর্যন্ত আমরা গ্যাস পাইনি। গুটিকয়েক ছেলে মেয়ে ছাড়া, কারও চাকরি হয়নি। তাছাড়া এ উপজেলার দক্ষিণ এলাকায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের থাকার জায়গা নেই। তাই আজ এখানে নারীরা একত্রিত হয়েছে আমাদের দাবি আদায়ের জন্য।’