নোয়াখালী জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা খেয়ে পকেট কমিটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য ঘোষিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে তা বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এসময় নবনির্বাচিত আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার ও যুগ্ম-আহ্বায়ক আনছার উল্যাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা। 

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী এই মিছিল করেন। মিছিলকারী নেতাকর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির প্রবীণ নেতা কাজী একরাম নতুন কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

 জানা যায়, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা যাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, আর অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ফখরুল ইসলাম। এই দুই পক্ষের অনুসারীরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বিএনপির দলীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করে আসছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফখরুল ইসলামের অনুসারী নুরুল আলম সিকদারকে আহ্বায়ক এবং আনছার উল্যাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান এই কমিটি অনুমোদন করেন। এই আহ্বায়ক কমিটি মেনে নেয়নি হাসনা মওদুদের অনুসারীরা। 

উপজেলা বিএনপি নেতা কাজী একরাম অভিযোগ করে বলেন, সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে সিনিয়র জুনিয়র মানা হয়নি। এতে করে এ কমিটি থেকে পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নতুন ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে সরকার দলের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি সে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের যোগ্য নয়। 

তিনি আরও বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঘোষিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ত্যাগী নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে এ কমিটিতে যথাযত স্থানে রাখা হয়নি। যা রাজনীতি শিষ্টাচার বহির্ভূত।

ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা মানছুরুল হক বাবর ও আবদুল মালেক মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের এক নেতার কাছ থেকে জেলা বিএনপির নেতারা মোটা অংকের টাকা খেয়ে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই নম্বর সদস্য করেছে। তার এক অনুসারীকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করেছে। এছাড়া ৪৮টি পদের ৪০টি পদ দেওয়া হয়েছে ওই জামায়াত নেতার অনুসারীদের। যারা প্রকৃত বিএনপি করে তাদেরকে পদ বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা এই আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানান। 

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার বলেন, কমিটিতো আমি করিনি। কেউ মুখে মুখে পদত্যাগের কথা বললে এটার কোনও মূল্য নেই। 

বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইন্ধনে এই মিছিল হয়েছে। ওই মিছিলে বিএনপির কোনও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা এ অভিযোগ করেছেন তারা বিএনপির কেউ না। তারা প্রতারক। 

 জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার টাকা খেয়ে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, দলের সকলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাসনা মওদুদ কোম্পানীগঞ্জের সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নিকট এ আহ্বায়ক কমিটি বাদ দিয়ে মওদুদ আহমদের প্রস্তাবিক কমিটি পুনর্বহালের দাবি জানাই।