জয়পুরহাটের কালাইয়ে হাঁটতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাড়ির বাইরে একটি পুকুরের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী বিলকিছ বানুকে (৫৩) হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ছাদেক আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাদেক আলী স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের ধুনট গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে নিহতের ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিলকিছ বানুর স্বামীকে আসামি করে কালাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মামলা থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাদেক ও তার স্ত্রী বিলকিসের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। মারপিটের মতো ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এই ক্ষোভ থেকেই সোমবার রাতে ছাদেক আলী স্ত্রীকে হাঁটতে বের হওয়ার কথা বলে বাইরে নিয়ে আসেন। হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে ছাদেক আলী তার স্ত্রী বিলকিছ বানুকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ওই স্থান থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ছাদেক আলীকে উপজেলার নোহার এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

নিহতে বড় ছেলে বিপ্লব হোসেন বলেন, বাবা প্রায়ই মাকে নির্যাতন করেন। রাতে হাঁটতে যাওয়ার কথা বলে মাকে নিয়ে বের হন বাবা। এরপর পুকুরে চুবিয়ে শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করেন। আমি এ হত্যার বিচার চাই।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।