মানিকগঞ্জে ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শিশু শিক্ষার্থীদের করোনা  টিকাদানের  কার্যক্রম শুরু হলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।  মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশ্বির রহমান রাফি ও জাহিদ মালেক উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার তোয়াকে বেলা ১২ টায় টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।  

মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ জন , মানিকগঞ্জ সুরেন্দ্র কুমার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৫০ জন , জাহিদ মালেক উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ জন এবং  কাটিগ্রাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জনসহ মোট ১২০জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলক এই টিকা দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। পরে এদের মধ্য থেকে ১১১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।  

শিশু শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের হাতে ৬০ লাখ টিকা আছে যার মধ্যে আমরা প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীদের টিকা দিবো।  আজ  আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা দেয়া। তারপর আরেকটি স্বপ্ন ছিলো শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া । সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। 

তিনি বলেন, এই (ফাইজারের টিকা) টিকাটি আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য অনেক দেশে দেয়া হচ্ছে। এই টিকাটি অনেক বেশী নিরাপদ। আমরা চাই, আমাদের শিশুরাও নিরাপদে থাকুক। তারা স্কুলে আসছে, তারা যেন করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকে। এইজন্য ফাইজারের এই টিকাটি আমাদের শিশুদের দিয়ে ট্রায়াল করা হলো। অল্প দিনের মধ্যেই সারা দেশেই ফাইজারের এই টিকাটি আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের দেয়া হবে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের এক কোটি টিকা দিতে পারবো। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। তাদের এই উদ্বিগ্ন নিরসন করতে টিকার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।  দেশে এক কোটি শিশু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এইসব শিশুদেরও টিকা দেওয়া হবে। 

এদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম টিকা নিতে পেরে দশম শ্রেণির ছাত্র মোবাশ্বির রহমান রাফিদ বেজাই খুশি। টিকা নেয়ার পর রাফি জানায়, প্রথমে তার একটু ভয় ভয় লেগেছিল, পরে টিকা দেওয়ার পর কোন ধরনের খারাপ লাগেনি।

 অপরদিকে প্রথম ছাত্রী হিসেবে গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া আক্তার তোয়া টিকা নিয়ে জানায়, স্কুল খোলার পর থেকে ভয়ে ভয়ে ক্লাস করেছিল ছিল। এখন টিকা নিয়ে নিশ্চিন্তে ক্লাস করতে পারবে। করোনার ভয় মন থেকে কেটে গেছে। 

অভিভাবকরাও খুশি হয়েছেন তাদের সন্তানরা টিকা নিতে পারায়। অভিভাবকরা বলেন, নিরাপদে ক্লাস করতে করোনার ভয়কে জয় করতে শিশুদের টিকা দেয়া হয়েছে। এতে শিশুরা আতঙ্কে থাকবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই টিকাদান কর্মসূচি পরবর্তীতে দেশের  ২১টি স্থানে শুরু হবে।  রাজধানীতে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে টিকাদান কর্র্মসূচি শুরু করা হবে। দেশে ইতিমধ্যে পাঁচ কোটি মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে  দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  এছাড়া  সময় মতো টিকা পেলে  আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।  এখন সংক্রমণের হার ২.৪। মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কম।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান জানান, প্রথম পর্যায়ে শহরের দুটি স্কুলের ৫০ জন করে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় মন্ত্রীর নামে স্থাপিত গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন ও সদর উপজেলার আটি গ্রামের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা দেয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসায় আগামী ১৪ দিন অবজারভেশনে রাখা হবে বলেও তিনি জানান। 

আর মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. জাকির হোসেন জানান, শিশুদের টিকা দেয়ার সব ধরনের ব্যবস্থাপনা রেখেছেন। টিকা নেয়ার পর কোন শিশু যদি অসুস্থ্য বোধ কিংবা কোন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, তার জন্য মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টিকা নেয়া শিশুরা বাড়িতে গিয়েও কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সেটি দেখার জন্যও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। তবে টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের এখন পর্যন্ত কোন সমসস্যা দেখা যায়নি বলে তিনি জানান।