কেবল দিগন্ত বিস্তারিত চা বাগান বা সবুজ টিলা নয়। মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে স্বচ্ছ, টলটলে জলের মাধবপুর লেক, পাখির কলতানে মুখর হাকালুকি হাওর ও বাইক্কার বিল। শুধু কি তাই? বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, জলপ্রপাত- কী নেই এখানে? 

জেলার সাতটি উপজেলায়ই রয়েছে নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট। লেবু বাগান, সীতেশ দেবের চিড়িয়াখানা, সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, রাজনগরের জলের গ্রাম অন্তেহরি, কুলাউড়ার গগনটিলা, লাঠিটিলার সবুজে মাখা অরণ্যাঞ্চল, বড়লেখার মাধবকুণ্ড, পরীকুণ্ড জলপ্রপাতের কারণে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এখন মৌলভীবাজার। 

এই জেলাকে আরও পর্যটকবান্ধব করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হলো ট্যুরিস্ট বাস। এসব বাসে দল বেঁধে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারবেন পর্যটকরা। এতে সময়, অর্থ সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের আরাম আর সুবিধাও বাড়বে অনেক।

ট্যুরিস্ট বাস উদ্বোধনকালে অতিথিরা। ছবি: সমকাল

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সহকারী কমিশনার নুসরাত লায়লা নীরা, সদর পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাসুদসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দুটি বাস জেলার বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে ছাড়বে। পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখিয়ে ফের ছেড়ে যাওয়া স্থলে ফিরে আসবে। প্যাকেজ-১-এর আওতায় রয়েছে চা-বাগান, গগণটিলা, মাধবপুর লেক ও হাকালুকি হাওর। জনপ্রতি ভাড়া তিনশ টাকা। কেউ দুপুরের খাবার খেতে চাইলে একশ টাকা যোগ করে ভাড়া হবে চারশ টাকা। এ প্যাকেজের বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রী নিয়ে বড়লেখা ঘুরে আসবে।

প্যাকেজ-২-এর আওতায় রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন (সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা), বাইক্কাবিল। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫০ টাকা। যারা দুপুরের খাবার খাবেন তাদের ৪৫০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। একই সময়ে দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস বড়লেখা থেকে ছেড়ে শ্রীমঙ্গল ঘুরে সেখানে ফিরে যাবে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, পর্যটকদের অনেকে যাতায়াত সমস্যার কারণে সব পর্যটন স্পট দেখতে পারেন না। তা ছাড়া অটোরিকশা, অটো চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া হাঁকেন। তাই পর্যটকদের সুবিধার্থে পর্যটক বাস চালু করা হয়েছে। এ বাস সার্ভিস চালুর ফলে মৌলভীবাজারের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে। এ বাস সার্ভিস মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হলে ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।