চট্টগ্রাম নগরের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। নগরের খাল-নালা পরিস্কারে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কাজ (রুটিন ওয়ার্ক) জোরদার করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে প্রতি মাসে একটি করে সমন্বয় সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর প্রতি মাসের অগ্রগতি জানাতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প নিয়ে প্রতি তিন মাস পরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকেরও সিদ্ধান্ত হয়। যেখানে চট্টগ্রামের স্থানীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। প্রতিটি সংস্থার মতামত নিয়ে প্রয়োজনে প্রকল্পগুলো সংশোধনেরও তাগিদ দেওয়া হয় সভায়।

সভা সূত্র জানায়, আবর্জনা ভর্তি নগরের খাল-নালা নিয়ে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে আগে নগরের জমে থাকা পানি আধা ঘণ্টায় নেমে যেত, এখন দুই ঘণ্টায়ও নামছে না। খালের ভেতর তৈরি করা রাস্তার কারণে এমনটা হচ্ছে। তিনি পরিবেশমন্ত্রী থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে যান-যন্ত্রপাতি দিলেও তা ব্যবহার করতে দেখেননি বলে জানান। যেসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন না, তাদের প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করার কথাও বলেন মন্ত্রী। সিটি করপোরেশনকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে পরামর্শ দেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উল্লেখ করেন, তার বাবা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে নগর অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ছিল। এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫৫ জন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী খাতা-কলমে কাজ করলেও বাস্তবে তারা কাজ করছেন না বলে তিনি জানান। বলেন, বিএ পাস লোকজনকেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা তাদের কাজ করছেন না। মহিউদ্দিন চৌধুরী যে পদ্ধতিতে নগর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছেন, সে পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয় সভায়।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী নগরে প্রতিটি প্রকল্প নেওয়ার আগে সমন্বয় সভা করার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষের আগে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে বলেন। এ ছাড়া সিটি আউটার রিং রোডের স্লুইসগেট বন্ধ করে টার্মিনাল নির্মাণ করায় নগরের একাংশে জলাবদ্ধতা হচ্ছে বলে জানানো হয়। স্লুইসগেটগুলোর পানি চলাচলের পথ তৈরি নিশ্চিত করতে বলা হয়।

সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোর পরিচালকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের খাল খনন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের টাকা বুঝিয়ে না দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন খাল খননে বাধা দিচ্ছে বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ কারণে দ্রুত জমি মালিকদের টাকা বণ্টনের জন্য অনুরোধ করা হয়।

সিডিএ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে তদবির করতে মন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ দ্রুত করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটির ফ্লাড ওয়ালের নকশা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চলা মতদ্বৈধতা উভয় সংস্থার মধ্যে বৈঠক করে নিরসন করতে সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান ছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব, চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।