নারায়ণগঞ্জ নগরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ হকারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক হকার নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গির্জার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হকার নগরের উত্তর মাসদাইর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে জুবায়ের হোসেন (২৪)।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জুবায়েরকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ১৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসাপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা পর্যন্ত সদর মডেল থানায় বসে থেকেও এ ঘটনায় মামলা করতে পারেননি নিহত জুবায়েরের স্বজনরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মা-বাবাসহ স্বজন ও হকারা।

শুক্রবার বাদ আসর নিহত জুবায়েরের জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে হকারদের একটি গ্রুপ ও স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। পরে তাকে নগরের মাসদাইর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নারাযণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) নাজমুল হাসান বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সদর মডেল থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।

নিহতের মা মুক্তা বেগম মামলার বাদী। তিনি আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মুক্তা বেগমের দাবি, আসাদ নামে এক হকার নেতার নাম মামলায় উল্লেখ করায় সদর মডেল থানার ওসি মামলা নিতে চাননি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত থানায় বসে থেকে তারা ফিরে আসেন।

ফুটপাতে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় জনবহুল জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে হকারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এ নিয়ে ইতোপূর্বে হকারদের মধ্যে হাতাহাতির বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। গত বুধবারও এ নিয়ে দুই গ্রুপ হকারের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

নারাযণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি শাহজামান বলেন, আটজনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এছাড়া মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনা যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে মামলা নিতে একটু দেরি হয়েছে।