সনদ জালিয়াতি করে সহকারী শিক্ষক হয়ে অধ্যক্ষ পদে ১২ বছর থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। একইভাবে জালিয়াতি করে তৌহিদুল ইসলাম শাহিন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে সভাপতি হয়েছেন। তদন্তে তাদের এ অনিয়মের সত্যতা মিললেও প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শোলাগাড়ী এলাকায় শোলাগাড়ী ঈদগাহ আলিম মাদ্রাসাটি অবস্থিত। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গেই শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এটি যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। জালিয়াতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শিক্ষার মান শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে সহকারী শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও তিনি ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদটি আগলে রেখেছেন। একইভাবে জালিয়াতি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন তৌহিদুল ইসলাম। তাদের এ অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দিনের জাল সনদ ও জালিয়াতি করে তৌহিদুল ইসলাম শাহিনের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সত্যতা মেলে। সংশ্নিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্তে অধ্যক্ষের নানা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তার এমপিও বন্ধের সুপারিশসহ কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। পরে অধিকতর তদন্ত চান অধ্যক্ষ ও সভাপতি। তাদের চাওয়া অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে পুনঃতদন্ত চাওয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন সংশ্নিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের তদন্তেও জালিয়াতির সত্যতা মেলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল রেজিস্ট্রার মো. সিদ্দিকুর রহমান স্বাক্ষরিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে অধ্যক্ষকে অপসারণ করে সিনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা এবং বিধি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় সহকারী শিক্ষক ও সভাপতি তাদের অপকর্ম চালিয়েই যাচ্ছেন। এখনও অবৈধভাবেই দু'জনের সই-স্বাক্ষরেই চলছে মাদ্রাসার সব কার্যক্রম। এরই মধ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন ও সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম শাহিন আরবি প্রভাষক পদসহ কয়েকটি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম পারভেজকে অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক হওয়ায় তিনি কিছু করতে পারবেন না বলে জানান।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আসলে মাদ্রাসার বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।

অধ্যক্ষ মিনহাজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো চিঠি পাননি বলে জানান।