কলমাকান্দায় আগুনে দগ্ধ হয়ে অন্তঃসত্ত্বা সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্যের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী মো. শাহীনুর আলম শাহীনসহ ৬ জনের নামোল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার লাবণ্যের চাচা শাহ মোস্তফা মো. সাঈদুল ইসলাম কলমাকান্দা থানায় মামলাটি করেন।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান সমকালকে জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

নিহত লাবণ্য কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গাখাজোড়া গ্রামের শাহ মোস্তফা আরিফুল ইসলামের মেয়ে এবং ময়মনসিংহের ধোপাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের ঘাগগড়া গ্রামের মো.শাহীনুর আলম শাহীনের স্ত্রী। 

মামলা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এক বছর আগে লাবণ্যের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকমাস পর তার গর্ভে সন্তান আসে।  বিয়ের পর ২ লাখ টাকা যৌতুক চায় লাবণ্যের স্বামী শাহীন। যৌতুক না দেওয়ায় তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুর তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করত। গত আগস্ট মাসে লাবণ্য তার বাবার বাড়িতে আসে। পরে গত ৯ অক্টোবর শনিবার বিকেলে লাবণ্যের স্বামী আামাদের বাড়িতে এসে ফের যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেয়। এটা নিয়ে লাবণ্যের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। যৌতুকের না দিলে লাবণ্যকে স্বামীর বাড়িতে নেবে না বলেও জানায় সে। একপর্যায়ে গালাগাল ও মারধর করে চলে যায় শাহীন। এরপর নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় লাবণ্য। প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাবণ্য মৃত সন্তান প্রসব করে। 

লাবণ্যের বাবা শাহ মোস্তফা আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'লাবণ্য আমার একমাত্র সন্তান। বিয়ের পর তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ের ওপর অনেক মানসিক নিপীড়ন চালায়। অতিষ্ট হয়ে সে গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দেয়।'