ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। এবারের চুক্তির মাধ্যমে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরা থেকে প্রতিদিন ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে আসবে। রোববার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও সাতটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, এবারের চুক্তির ফলে বিদ্যুৎ আমদানিতে সরকারের ৭০৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাঁচ বছরে এ বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সরকারের চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা খরচ হবে।

ত্রিপুরার এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগম লিমিটেড থেকে এক চুক্তির আওতায় সরকার ২০১৬ সাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে। এ বছরের ১৬ মার্চ আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করে। আগের চুক্তির সব শর্ত ঠিক রেখে শুধু দাম পরিবর্তন করে নতুন চুক্তি করা হলো। আগে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ছিল ৭ টাকা ৯৯ পয়সা। এবারের চুক্তিতে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ টাকা ১৩ পয়সা। এ ছাড়া বছরে ২ শতাংশ হারে এই দাম বাড়বে। আগের চুক্তিতে ৫ শতাংশ হারে দাম বেড়েছে।

এ ছাড়া রোববারের সভায় বেসরকারি উদ্যোগে ৬৬০ মেগাওয়াট গ্যাস বা এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। যদি গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাহলে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের মূল্য পড়বে ২ টাকা ৯৪ পয়সা। আর এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে ৫ টাকা ৪৩ পয়সা দাম পড়বে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি-১৯৯৬ এর আওতায় বিল্ড, ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও) ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার মেঘনাঘাটের জামালদিতে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস অথবা আরএলএনজিভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য মালয়েশিয়ার কনসোর্টিয়াম অব এডরা পাওয়ার হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডি এবং বাংলাদেশের উইনিভিশন পাওয়ার লিমিটেডকে এ প্লান্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সরকারের ২২ বছরের চুক্তি হয়েছে।

এ ছাড়া ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এসব সার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) বাংলাদেশ, কাতারের মুনতাজাত ও সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন থেকে আমদানি করা হবে। এতে মোট খরচ হবে ৪৬৯ কোটি টাকা। পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দুটি ৭০ টনের বোলার্ড পুল টাগবোট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড এসব সরবরাহ করবে। এতে খরচ হবে ১৩২ কোটি টাকা। ২০২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের পাঁচটি লটে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯৫ কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে প্রেস লাইন লিমিটেড, লেটার এন কালার এবং সিডনা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে। এতে সরকারের খরচ হবে ৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে না : রাজধানীর সঙ্গে বন্দরনগরীর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এজন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ করে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশাও করা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখন সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এক্সপ্রেসওয়ের পরিবর্তে বর্তমান যে চার লেনের মহাসড়ক রয়েছে সেটি আরও প্রশস্ত ও সার্ভিস লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রকল্পের তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। এখন সরকার নিজেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এ বিষয়ে শামসুল আরেফিন বলেন, জাতীয় মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে, সার্ভিস লেন করা হচ্ছে। এজন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে হবে না, চার লেন হবে।

করোনার কিট ও সিরিঞ্জ কেনার অনুমোদন : তিন লটে ২০ লাখ করোনাভাইরাসের পিসিআর ডায়াগনস্টিক কিট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব কিট কিনতে খরচ হবে ১১৭ কোটি টাকা। কিটগুলো সরবরাহ করবে ঢাকার স্টারলিং মাল্টি টেকনোলজিস, ওএসসি প্রাইভেট লিমিটেড এবং নারায়ণগঞ্জের জিএস বায়োটেক।

এদিকে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস ফরেন ট্রেড করপোরেশন থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৯ কোটি সিরিঞ্জ কেনার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে শামসুল আরেফিন বলেন, চীন ছাড়া এই মুহূর্তে এই বিপুলসংখ্যক সিরিঞ্জ সরবরাহ করার সামর্থ্য নেই। সময়কে সংক্ষিপ্ত করার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যেতে হচ্ছে। সরকারের ২৭ কোটি ৬৪ লাখ সিরিঞ্জ কেনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জও এই কোম্পানি সরবরাহ করবে।