ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে অপমানসূচক ভাষায় অবমাননার অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। 

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি শিক্ষকদের তিনটি সংগঠনের নেতারা। রোববার গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর পূর্বে বেলা ১২টার দিকে অনুষদ ভবনের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। 

কর্মকতা সাইফুল ইসলাম তাৎক্ষনিকভাবে দুজন শিক্ষকের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালে বাকবিতণ্ডা বাধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বর্তমানে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বেলা ১২টার আগে অনুষদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গৌতম কুমার দাস তাকে দেখে অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করেন। বিষয়টি শুনতে পেয়ে এস্টেট দপ্তরের সাবেক পরিচালক উপ-রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম প্রতিবাদ করেন। তখন ওই দুই অধ্যাপক সাইফুলের উপরে চড়াও হয়। তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন তারা।

সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘স্যার বের হচ্ছিলেন। তখন মিজান ও গৌতম স্যার তাকে দেখে খুবই বাজে ভাষায় গালি দেয়। আমি তখন এর প্রতিবাদ করি। আমাকে মারার জন্য তারা তেড়ে আসে। পরে উপস্থিত অন্যান্যরা পরিবেশ শান্ত করে।’

বিষয়টি শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে উত্তেজনা শুরু হয়। 

এরপর পরীক্ষা শেষে বিকেল চারটায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কাজী আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক রেজওয়ানুল ইসলাম , সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক  মাহবুবর রহমান ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল কে এম সালেহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপি এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা নাসরিন বিকেল চারটায় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ভিসি স্যারকে বলে এসেছি বিষয়টি যদি দ্রুত সমাধান না করেন তবে আগামী ২৪ তারিখের ভর্তি পরীক্ষায় এর প্রভাব পড়বে। মিজানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় আশকারী স্যার তাকে হল প্রভোস্ট ও টিএসসিসির পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই থেকে সে এমন অসভ্য আচরণ করে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাবেক ভিসিকে দেখে আমি ড. গৌতমকে বলি, সকালে এমন একজন লোককে দেখলাম দিনটিই খারাপ যাবে। এক সাথে থাকলে সাধারণত যা কথাবার্তা হয় মানুষের সাথে তাই হয়েছে। সাইফুল ছিল পিছনে। সে ছুটে চলে আসছে। এসে গালি দিয়ে বলছে, আপনাদের মত কিছু মানুষের মুখ দেখলে আমাদেরও দিন খারাপ যায়। পরে কথা কাটাকাটি হয়। ওরা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তবে আমরাও লিখিত দিব।’



এ বিষয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর অনেক শিক্ষকের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় গিয়েছিলো। আগে একটি দায়িত্বশীল পর্যায়ে ছিলাম। এটি একটি পাবলিক পরীক্ষা। আমি প্রাণপন চেষ্টা করেছি যেন পরীক্ষাটা ভালভাবে শেষ হয়। বর্তমান উপাচার্য আমার সাথে কথা বলেছেন। তিনি বিষয়টিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। একজন সিনিয়র শিক্ষকের কাছে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত। আমরাও গ্রুপ রাজনীতি করে এসেছি। বিরোধিতা করেছি। কিন্তু যখন পারসোনালি দেখা হয়েছে তখন ঠিকই সেই মানুষটিকে সালাম দিয়ে মাথা নুয়েছি। উনি এসেছেন পরীক্ষা নিতে। ক্যাম্পাসে পরীক্ষার দিনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত না। আমি অভিযুক্তকে ডাকব। দেখা যাক তার বোধ জাগে কি না।’