মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রোববার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠ।

সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডিজ, উর্দুসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বিভাগ পরীক্ষাও নিয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাস শেষে কিংবা ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাসে দেখা গেছে সেই চিরচেনা কোলাহল। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের ফিরে পেয়ে আড্ডায় মেতেছেন শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকলাইন বলেন, কয়েকদিন আগে হলে ওঠার সময় অনেক খুশি ছিলাম। তবে আজকের আনন্দ একেবারে অন্যরকম। অনেকদিন পর আজ নিজেকে আবার ছাত্র মনে হচ্ছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম বলেন, হল খুললেও মনের মধ্যে একটা শূন্যতা কাজ করত। কবে নাগাদ ক্লাসে ফিরতে পারব- এই নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। সেই সংশয় দূর হলো।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এদিন কলাভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী কভিড-১৯ এর অন্তত ১ ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো।

যেভাবে কমানো হবে সেশনজট: প্রায় দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে 'লস রিকভারি প্ল্যান' ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোকে বিভিন্ন বর্ষ এবং সেমিস্টারের রুটিন ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একাডেমিক কাউন্সিল প্রণীত 'লস রিকভারি প্ল্যান' অনুসৃত হবে। এই পরিকল্পনায় সেমিস্টার সিস্টেমে ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসে শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, যেসব বিভাগে এখনও বার্ষিক সিস্টেম চালু আছে, সেসব বিভাগে এক বছরের পরিবর্তে আট মাসের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। তবে একাডেমিক কার্যক্রমের মেয়াদ কমানো হলেও সিলেবাস আগের মতোই থাকবে।

গতকাল থেকে সশরীরে ক্লাস শুরু হলেও অনলাইনেও ক্লাস চালাতে পারবে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে। বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে সশরীরে। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো চাইলে শতভাগ ক্লাস সশরীরে নিতে পারবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো চাইলে একসঙ্গে অনলাইনে এবং সশরীরে ক্লাস নিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের মতো প্রথম বর্ষ এবং নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদেরও এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। তবে এই বছর যে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে, তাদের যেন একদিনও সেশনজট না হয়, সেজন্য একাডেমিক কাউন্সিল থেকে ইতোমধ্যে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোকে বলা হয়েছে।