করোনা মহামারির কারণে ৫৭৯ দিন বন্ধ থাকার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করতে শুরু করেন। এদিন শুধুমাত্র মাস্টার্স ও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র, টিকা নেওয়ার সনদ অথবা নিবন্ধনের ফটোকপি জমা দিয়ে নিজ নিজ হলে প্রবেশের অনুমতি পান।

হলে প্রবেশকালে শিক্ষার্থীদের গোলাপ ফুল, চকলেটসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক ও স্যানিটাইজার উপহার দিয়ে স্বাগত জানান স্ব স্ব হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা হলে ফেরায় ক্যাম্পাসে উৎসবের হাওয়া লেগেছে। প্রাণের ছোঁয়া লাগছে ক্যাম্পাসে। হলের সামনে একে অপরকে দেখে বহুদিনের জমানো আবেগ প্রকাশ করেন।

এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নিলয় কুমার সরকার বলেন, দেড় বছর পর হলে উঠেছি। সত্যিই বিষয়টা অনেক আনন্দের। প্রথম যখন সিট পেয়ে হলে উঠেছিলাম সেই অনুভূতি যেন আবারও হচ্ছে। এত দিন হলের ক্যানটিন, ডাইনিং ও আমাদের রুমগুলোতে কাটানো সময়গুলো মিস করেছি। আজ থেকে আবার সেই দিনগুলো ফিরে পাব।

শিক্ষার্থীদের উপহার সামগ্রীর সাথে হলে উঠার দিকনির্দেশনা সম্বলিত নীতিমালা দেওয়া হয়। তাতে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার সময় এবং অবস্থানকালে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে- ডাইনিং, ক্যান্টিন, মসজিদ, টিভি ও রিডিং রুমে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হলে বহিরাগত ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মশারি ব্যবহার করতে হবে।

আগে থেকেই হল খোলার ব্যাপারে সব প্রস্তুতি শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হলে থাকছে না গণরুম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল প্রভোস্ট কাউন্সিল কমিটির সভাপতি ও খানবাহাদুর আহছান উল্লাহ হলের প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত করোনাকালীন সময়ে নতুন করে আর গণরুমে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে যে শিক্ষার্থীরা হলের গণরুমে থাকতো তাদেরকে ধীরে ধীরে অন্য ফাঁকা রুমে সিটের ব্যবস্থা করা হবে।বর্তমানে গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে না।

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ডাইনিং রুম নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা যাতে নিশ্চিত থাকে সেধরনের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডাইনিং,ক্যান্টিনের সকল কর্মচারীদের ও টিকার ডোজ শেষ করলেই হলে কাজ করতে পারবেন।

অন্যদিকে এক বছর ধরে খান জাহান আলী হলের সংস্কারের কাজও শেষের দিকে। এ হলের সব রুমের দেওয়াল নতুন করে রং করা হয়েছে, পুরাতন ব্যালকোনি ভেঙে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি রুমের লাইটগুলোও নতুন করে দেওয়া হয়েছে

টিকার বিষয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে এবং বাকিরা নিবন্ধন করেছে। এ সংক্রান্ত নোটিশ আরো তিন মাস আগেই শিক্ষার্থীদের পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল খুবির আবাসিক হলগুলো। ১৮ অক্টোবর থেকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার মধ্য দিয়ে হলগুলো আবার খুলেছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে সকল বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে হলে উঠতে পারবেন।