সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাদেশে 'সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা' করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সমাবেশ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটির নেতারা বলেছেন, 'ভয় নেই, পাশে আছি; সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শিকড় উপড়ে ফেলা হবে।'

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে 'সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা' শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে জিরো পয়েন্ট, শিক্ষা ভবন, দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় শান্তি শোভাযাত্রা। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রার প্রভাবে দিনের প্রথমাংশে রাজধানীর অনেক এলাকায় যানজট দেখা দেয়। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোও সারাদেশে এ কর্মসূচি পালন করে।

সমাবেশে অংশ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, 'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা হবে।' হিন্দু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'ভয় নাই, শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছে, আওয়ামী লীগ আপনাদের সঙ্গে আছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আজকে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর- এগুলো ২০০১ সালে বিএনপি সরকার যে নির্যাতন চালিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি। শেখ হাসিনার আমলে প্রতিটি দুর্গাপূজায় হাজার হাজার পূজামণ্ডপে পূজা চলেছে। কোনো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা শুরু হয়েছে। দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর কুমিলল্গা শহরের একটি মন্দিরে কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে হিন্দুদের উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।'

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়ে নাই। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা বাংলাদেশে আজ সম্প্রীতি সমাবেশ হচ্ছে, শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা হচ্ছে। যতদিন না এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে।'

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুসলমান আছে, তাদের জানমালের কথাও ভাবতে হবে। হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভারতের একটা বড় অংশ মুসলমানদের জীবনকেও বিপন্ন করে তোলা হচ্ছে।'

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মোকাবিলা করে তাদের সমুচিত জবাব দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে প্রস্তুত আছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি আজ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কে দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।'

সমাবেশে অংশ নিয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সাম্প্রদায়িক এই হামলায় যারাই জড়িত, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অসাম্প্রদায়িক এই বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম সারাদেশ সফর করবে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ওরা জানে, ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারবে না। এ জন্য এই ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সম্প্রীতি নষ্ট করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর-উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আব্দুল আওয়াল শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ছাত্রলীগের সম্প্রীতি সমাবেশ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সারাদেশে 'সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা' কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের 'সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা'য় যোগ দেয় ছাত্রলীগ।

সমাবেশের পর ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে 'সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা' কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সম্প্রীতি সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় অংশ নেন।