দু'দিনের টানা বৃষ্টি, বাতাস ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গত সোম ও মঙ্গলবার মোংলা বন্দরের আউটারবার ও ইনারবারে অবস্থানরত ২০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে বন্দর জেটির কনটেইনার ও কার ইয়ার্ডের কাজ।

এদিকে দু'দিনের বৃষ্টিতে মোংলার চাঁদপাই, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় চারশ ৯৫টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। সব ইউনিয়নে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে পৌর শহরসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও পুকুরসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। উপজেলা পরিষদ চত্বরজুড়ে পানি থৈ থৈ করছে। বৃষ্টি ও জোয়ারে নদী-খাল ভরা থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দীন জানান, দু'দিনের ভারি বৃষ্টির ফলে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে জেটিতে কাজ চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার মোংলা সমুদ্রসহ উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত জারি করে আবহাওয়া অফিস, যা মঙ্গলবারও বহাল রয়েছে। তবে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজমান থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, বৃষ্টিতে জাহাজের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পণ্য খালাস করে নির্দিষ্ট সময়ে বন্দর ত্যাগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন বিদেশি জাহাজ মালিকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও। কাজ বন্ধ থাকলেও তাদের শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জাহাজ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের নামিয়ে দেওয়ায় তারা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান বলেন, বৃষ্টিতে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেন ও খাল দিয়ে এই পানি নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।