সিলেটে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে মো. আরিফুল ইসলাম রাহাত নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত রাহাত দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর গ্রামের প্রবাসী সুরমান আলীর ছেলে এবং দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, দুপুরে দক্ষিণ সুরমা কলেজের অভ্যন্তরে কথা কাটাকাটির জেরে একই কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী রাহাতের পায়ে ছুরিকাঘাত করে। কলেজে উপস্থিত অন্যরা দ্রুত তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক এক শিক্ষার্থী তাকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ ওসমানী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার সাদি নামের একজন জড়িত বলে জানিয়েছেন রাহাতের চাচাতো ভাই রাফি। প্রত্যক্ষদর্শী রাফি বলেন, রাহাত প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। আমিও তখন তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলাম। পড়তে যাওয়ার আগে সে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কলেজের ভেতর যায়। কলেজ থেকে বের হয়ে মূল গেটের সামনে আসামাত্র সাদি নামের একজন পেছন থেকে মোটরসাইকেলে করে এসে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক রাহাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার নেপথ্যে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযুক্ত সাদি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, দুপুরে কলেজের মূল ফটকের ভেতরে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। কলেজের মূল ফটকের সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে, এখনই বলা যাচ্ছে না। অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর কলেজের ক্লাস আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে।

এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম।