বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এক বেকারি ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে বসুরহাট পৌরসভায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় আটক রাখার পর ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই বেকারি মালিক আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের জুবলি রোডের মেসার্স ছাত্তার বিস্কুট বেকারি অ্যান্ড ব্রেড ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন।  তবে এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী এখনি কোনো আইনের আশ্রয় নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার পৈত্রিক ব্যবসা বেকারি। তার বাবা ১৯৬৯ সালে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে চার শতকের ওপর বেকারি ব্যবসা গড়ে তুলেন। তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভূমি অফিসের ভুলের কারণে ভুলবশত সরকারি খাস জমি হিসেবে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে ভূমি অফিসের পরামর্শে ওই রেকর্ডের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা গত পাঁচবছর  ধরে চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভা থেকে বলা হয়েছে তাদের বেকারির চার শতক জমি সরকারি। ওই জায়গা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন মেয়র। এরপর গত ১৫-২০ দিন আগে কাদের মির্জা তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের বেকারিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে যান। এর  চারদিন পর তাদেরকে ডেকে পাঠিয়ে চাবি দিয়ে দিলে তারা পুনরায় কারখানায় উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে কাদের মির্জা দোকানে এসে আমাকে ঘুষি মেরে তার অনুসারীদের আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার দোকান থেকে আমাকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমার থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় আমাকে জানানো হয় এতে কোনো সমস্যা হবে না। পরে স্ট্যাম্পের বিষয়ে আমার সাথে কথা বলা হবে।’ 

ওহাব জানান, এ বিষয়ে তিনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন না।  পরে ভেবে চিন্তে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

ওহাব আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচন ও কাদের মির্জার পৌর  নির্বাচনে কাজ করেছেন। 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেলে ও রাত সোয়া ৯টার দিকে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মোবাইলে কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

 এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এমন ঘটনা তিনি জানেন না এবং এই  বিষয়ে কেউ তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগও দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।