অফগ্রিড এলাকা ভোলার মনপুরায় বিশেষ আইনে তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কারিগরি কমিটি এবং প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে নির্বাচন করার জন্য সুপারিশ করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভোলার মনপুরায় সরকার হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রয়োজন অনুযায়ী সোলার ব্যাটারি এবং ডিজেলে চালানো হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে পিডিবি ২০ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ টাকা ২৫ পয়সা।

জানা গেছে, গত বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে মুজিববর্ষে অফগ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) আওতাধীন অফগ্রিড এলাকা (যেখানে গ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায় না) ভোলার মনপুরা এলাকায় একটি হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রে জানা যায়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডকলের অংশীদার প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি মনপুরা দ্বীপে বিল্ড ওউন অপারেট (বিওও) ভিত্তিক বাস্তবায়ন প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া নিজস্ব আর্থিক বিনিয়োগে এবং প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য ট্রান্সমিশন লাইন, সাব-স্টেশন নির্মাণসহ সম্পূর্ণ প্রকল্প ব্যয় নিজেরা নির্বাহ করবে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কারিগরি ও প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২৭ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাবে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি বিবেচিত হয়েছে। ফলে কারিগরি কমিটি তাদের প্রতিবেদনে সোলার, ব্যাটারি এবং ডিজেল সমন্বিত একটি হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র অথবা ফার্নেস অয়েলভিত্তিক, সঙ্গে সোলারভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মতামত দেন। তবে সব শেষে কারিগরি কমিটি ও প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি সোলার-ব্যাটারি-ডিজেল সমন্বিত হাইব্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মতামত দেন। কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২১ টাকা ২৫ পয়সায় ২০ বছর মেয়াদে ক্রয় চুক্তির বিষয়ে মত প্রকাশ করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (সংশোধন-২০২১) অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দরকষাকষি করে মূল্যায়ন করা হয়েছে।