ভারতে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি ভাবিয়ে তুলেছে দেশটির কর্মকর্তাদের।

শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগের দিন দেশটিতে নতুন করে ১৬ হাজার ৩২৬ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।  এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২ জনে।

একদিনে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ভারতের কেরালায় একদিনে নতুন করে ২৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯০০০ জনের। তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রেও গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০০ জন করে মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। একই সময়ে মিজোরামে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪৫ জনের। গোটা ভারতের মধ্যে এই চারটি রাজ্যেও বতর্মানে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী রয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার যেখানে ৮৩৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৬ জনে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গাপূজার উৎসবে স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং মানুষের অসচেতনতায় সংক্রমণ বেড়েছে।

মহামারির এক বছর পেরিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ভারত। গত এপ্রিলে রোগীর পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যাওয়া বড় চাপে ফেলেছিল দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগকে।

ডেল্টা সংক্রমণে ভারতের সেই বিপর্যস্ত অবস্থার বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বিশ্বের ভাইরাসবিরোধী লড়াইয়ের উপরও। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারত তখন টিকা রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, ফলে অনেক দেশের টিকা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বছরের মাঝামাঝির পর ভারতে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও টিকা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা এখনও ওঠেনি।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত ২৮ দিনে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৩ জন কোভিড রোগী ধরা পড়েছে। আর মারা গেছে ৬ হাজার ৬৭৪ জন।

গত ২৮ দিনে শনাক্ত রোগীর হিসাবে ভারতের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ লাখ ২৫ হাজার জন। এর পরে রয়েছে যুক্তরাজ্য (১০ লাখ ৮০ হাজার), তুরস্ক (৮ লাখ ১২ হাজার)ও রাশিয়ার অবস্থান (৭ লাখ ৫৬ হাজার)।

ভারতে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৬ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর  মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৫৩ হাজার জন।