রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে  অংশ নেওয়া আজিজুল হক দায় স্বীকার করে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, মুহিবুল্লাহকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনার কথা বলে অফিসে ডেকে নিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা। তিনি অফিসে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন।  ওই সময় অস্ত্রধারী হত্যাকারীরা গিয়ে মুহিবুল্লাহকে বসা থেকে ওঠতে বলে। তিনি ওঠে দাঁড়ালে তাকে চার রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।

শনিবার ভোরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আজিজুল হকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা। উখিয়ার কুতুপালং লাম্বাশিয়া লোহার ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক।  

সাংবাদিকদের নাইমুল হক বলেন, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়। ঘটনার পরপরই ১৪ এপিবিএন তদন্ত পরিচালনা করে। এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুল হক সহ ৪ জনকে শনিবার ভোরে লাম্বাশিয়া লোহার ব্রিজ এলাকা থেকে একটি ওয়ান শুটার গান এবং এক রাউন্ড কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন-মো. রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, মো. আনাছ ও নূর মোহাম্মদ।’ 

তিনি জানান গ্রেপ্তার আজিজুল জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ‘মুহিবুল্লাহকে হত্যার পূর্বে দুই দিন তারা লাম্বাশিয়া মরকজ পাহাড়ে মিটিং করেন। মিটিংয়ে আজিজুলসহ আরও চারজন উপস্থিত ছিলেন।  শীর্ষ নেতারা মুহিবুল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের বড় নেতা হয়ে উঠেছে, তাকে থামাতে হবে। এই কারণে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।’ 

আজিজুলের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে নাইমুল হক বলেন, ‘২৯ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের পর মুহিবুল্লাহ বাসায় চলে যান। কিন্তু গ্রেপ্তার মুরশিদ আমিন তাকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনার কথা বলে অফিসে ডেকে নিয়ে আসেন। এরপর মুরশিদ দলের অপর দুইজন মো. আনাছ ও নূর মোহাম্মদের কাছে বিশেষ সংকেত পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে দুর্বৃত্তদের দলটি সি/৮ ব্লকের পেঁপে বাগানে অবস্থান করছিল। সংকেত পাওয়ার পর তারা মুহিবুল্লাহর অফিসে চলে আসে। তাদের দলে মুখোশধারী সাত সদস্য ছিল। আনাছ, নূর মোহাম্মদ ও আজিজুল এসে মহিবুল্লাহর অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। অন্যরা বাইরে অবস্থান নেয়। ’

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় মুহিবুল্লাহ ১০/১৫ জন লোকসহ তার অফিস কক্ষে চেয়ারে বসে ছিলেন। এ সময় অফিস কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে অস্ত্রধারী আনাছ বলে, ‘মুহিবুল্লাহ ওঠ’। মুহিবুল্লাহ চেয়ার থেকে ওঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ৪টি গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে আজিজুল, আনাছ এবং নূর মোহাম্মদসহ অন্যান্যরা অফিস সংলগ্ন পেছনের রাস্তা দিয়ে পেঁপে বাগান হয়ে পালিয়ে যায়। 

এসপি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। সবাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এপিবিএন পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। 

উল্লেখ্য, মুহিবুল্লাহ হত্যার পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় এর আগে মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইলিয়াছ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মাদ্রাসায় হামলা করে ৭ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় আটক ৮

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা ঘটনার ২৩ দিনের মাথায় বালুখালী ক্যাম্পে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে শিক্ষক ছাত্রসহ ৬ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ৮ এপিবিএন অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে সন্দেহজনক ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।