ফরিদপুরের সালথায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মারিজ সিকদার (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এতে আরও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ৫০টি বসতঘর।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মারিজ খারদিয়া গ্রামের সওরাফ সিকদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, যদুনন্দী ইউপি নির্বাচনে গত ১৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রব মোল্যা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. রফিক মোল্যা ও নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর। তারও এক মাস আগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে বিরোধের জেরে রফিকের পক্ষ ত্যাগ করে টুকু ঠাকুর রব মোল্যা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়ার দলে যোগ দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রব মোল্যার সঙ্গে রফিকের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় উভয় প্রার্থীর হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকেন।  দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় মারিজ সিকদার, নাসির মোল্যা, রহিম মণ্ডল, রশিদ শেখ, সাকির মোল্যা ও টেপু শেখসহ উভয় প্রার্থীর ৩০ জন আহত হন। আহতদের ফরিদপুর শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিকের সমর্থক মারিজ মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় অন্তত ৫০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’