নোয়াখালীর চৌমুহনী বাজারের পূজামণ্ডপে হামলা, ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

ওই তিন আসামি হলেন- রিপন আহাম্মেদ মাহীর (১৯), আরাফাত হোসেন আবির (২৪)  ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাজিব (২৫)। এর আগে, বৃহস্পতিবার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর গ্রামের আবদুল হাশিমের ছেলে আবদুর রহিম সুজন (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলা গোয়েন্দা (ওসি ডিবি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে আদালতে আসামিদের জবানবন্দি নেওয়া শেষ হয়। এরপর তাদেরকে কারগারে পাঠানো হয়।

এর আগে হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৩ জনকে গ্রেপ্তর করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, কুমিল্লায় দুর্গাপূজা মণ্ডপে পবিত্র কুরআন অবমাননা ঘটনার জের ধরে গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী শহরে কয়েক হাজার লোক তৌহিদী জনতার নামে মিছিলসহ চৌমুহনী ব্যাংক রোড, ডিবি রোড, কলেজ রোডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, ৮টি মন্দির ও ৫টি পুজা মণ্ডপে হামলা,ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে। ওই হামলায় যতন সাহা ও প্রাপ্ত চন্দ্র দাস নামের দুই ইসকন ভক্ত নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনায় পৃথক পৃথক ধারায় ৭টি মামলা দায়ের হয়।