সিলেটে কলেজছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাতের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলনে নামবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

রোববার দুপুরে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানান অধ্যক্ষ শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এর দায়ভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই বহন করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রাহাতকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। 

শুক্রবার রাতে নিহতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে দক্ষিণ সুরমার সিলাম পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে সামসুদ্দোহা সাদী, একই এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে তানভীর আহমদ ও আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে সানীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।\হসংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শামছুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের পরও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা দুঃখজনক। 

এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, রাহাত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এ বছর তার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাকে নির্মমভাবে খুণের ঘটনায় আমরা শোকাহত, ভাষা হারা। তিনি বলেন, এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থী নয়। সে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিল।

অধ্যক্ষ জানান, রাহাতের রুহের মাগফেরাত কামনায় ৩০ অক্টোবর দোয়া মাহফিল করা হবে। পাশাপাশি রাহাতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথাও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজরী রানী ধর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুর আড়াই টার দিকে রাহাতের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাস্তার দু'পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। খবর পেয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।