নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৮টার দিকে বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাজী মফিজ উল্যার ছেলে মো.আনোয়ারুল ইসলাম (২৯), আলীপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো.আবু তালেব (৪৭), হাজীপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে মো. ফরহাদ (২৭)। রোববার রাতে নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জাননো হয়।

 নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলামের বরাত দিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা চলাকালীন  বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেসব হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

অপরদিকে, সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর এবং দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে রোববার রাতে উপজেলার সেবারহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার কার্যালয়াধীন ডিএসবি কার্যালয়ের পরিদর্শক -১ (ডিআইও-১) সৈয়দ মোঃফজলে রাব্বি জানান, বেগমগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ,মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল খানায় ১০ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসকল মামলায় মোট ১২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এজাহার নামীয় ৬৩ জন এবং সন্ধিগ্ধ ৬৪ জন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃশহীদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালীন সময় বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ,মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা এবং লোকজন হতাহতের ঘটনায় মোট ২৫ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসকল মামলায় ১৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এজাহার নামীয় ৮৯ জন এবং সন্ধিগ্ধ ৯২ জন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইতোমধ্যে চার আসামি নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। নিরপরাধ লোকজন যেন হয়রানির স্বীকার না হয় পুলিশ সে বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। হামলার সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবেনা।