যশোরের অভয়নগরে প্রেমিকের ছোঁড়া অ্যাসিডে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। দু'জনই উপজেলার এসএএফ চামড়া মিলের শ্রমিক।

পুলিশ জানায়, অ্যাসিডে কেয়া খাতুন (২৮) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম শামীম হাসান। কেয়া উপজেলার গ্রামতলা গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। আগের সংসারে ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। শামীম উপজেলার জাফরপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় এসএএফ মিলে শামীম ও কেয়া  শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব  দেন শামীম। কিন্তু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কেয়ার ওপর ক্ষিপ্ত হন শামীম। সোমবার দুপুরে মিলের মধ্যে খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় লোহার রড দিয়ে কেয়ার মাথায় আঘাত করেন শামীম। পরে মিলের ড্রামে থাকা অ্যাসিড বালতিতে করে এনে তার শরীরে ঢেলে দেন। অ্যাসিডে কেয়ার শরীর ঝলসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে শামীমকে আটক করে।

কেয়ার মামা হাবিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘শামীম দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাগ্নিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সে রাজি না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপ করে ওই যুবক। এতে ওই কেয়ার মৃত্যু হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।’