কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা সরকারের নীলনকশা বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির গঠিত তদন্ত দল। ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনের পর সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে এমন অভিযোগ করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা মন্দিরে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত শুনেছি। সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এসব হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের লোকজন। তবে তাদের সামনে না এনে যারা নিরীহ বা শান্তিপ্রিয় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের মোকাবিলা করা বা আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া বা বিচার করার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের হেনস্তা করার একটি ইস্যু তৈরি করেছে।

গয়েশ্বর রায় বলেন, আজকে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় শুধু হিন্দু আক্রান্ত হয়েছে আমরা বলব না। গোটা জাতি আক্রান্ত হয়েছে। সেই আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লাসহ পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় গয়েশ্বর রায়ের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২৩ অক্টোবর একটি প্রতিনিধি দল কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দির, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রম ও রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ আখড়া পরিদর্শন করে এবং মন্দিরের পুরোহিতসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে।

গয়েশ্বর রায় বলেন, কুমিল্লার চাঁন্দমনি রক্ষা কালী মন্দিরে ১৩ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় তিন দফা আক্রমণ করা হয়েছে। সেখানে পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলেছি। আশপাশের দোকানিদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। আতঙ্কটা এখনও তাদের মন থেকে মুছে যায়নি। কোনো কথাই তারা বলতে চায় না। কারণ তাদেরও জীবন আছে, ভয় থাকতেই পারে। এখান থেকে অনুমান করা যায়, সরকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরানো এবং ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটা হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু, দেবাশীষ রায় মধু, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সভাপতি প্রকৌশলী মমিনুল হক ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সভাপতি কামাক্ষা চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।