ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার গেছে বরিশাল নগরীর মধ্যভাগ দিয়ে। ফরিদপুর থেকে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রস্তাবিত চার লেন জাতীয় মহাসড়কের নগরীর মধ্যের অংশটি চার লেনে উন্নীত করা হবে নাকি নগরী এড়িয়ে বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মিত হবে- এ নিয়ে গত দু-তিন বছর ধরে চলছে টানা-হ্যাঁচড়া। বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে নগরীতে আন্দোলনও হয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে সোমবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতবিনিময় সভা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৯৫ ভাগই বাইপাস সড়ক নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, মহাসড়কের নগরীর মধ্যে দিয়ে যাওয়া অংশটি চার লেনে উন্নীত হলে নগর ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং জমি অধিগ্রহণের ফলে অসংখ্য বহুতল স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। এতে ক্ষতিপূরণের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বাড়বে।

সড়ক ভবনে সওজের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বরিশালের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজন উপস্থিত থেকে তাদের মত দেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামিমুজ্জামান সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আল আমিন সরোয়ার বলেন, তিনি মহাসড়ক বাইপাস সড়ক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এই মহাসড়ক করতে হলে আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল নগরীর প্রবেশমুখ গড়িয়ারপার মোড় থেকে নগরীর পশ্চিমাংশ বারুজ্জারহাট, মহানগর কলেজের সামনে থেকে রুইয়া, টিয়াখালী হয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেনসহ অংশগ্রহণকারী ৯৫ ভাগই একই মত দিয়েছেন সভায়।

বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আ. রহিম বলেন, মহাসড়কটি বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে ৪০০ মিটার দূরে আছে। কিন্তু এটি কমপক্ষে ৮০০ মিটার দূরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

সভার সভাপতি সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা বলেন, রেলওয়ে, বিমান, সিটি করপোরেশন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতামত নিয়ে চার লেনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সওজের সার্ভেয়ার আরিফ হোসেন বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালী জেলা শহরের পর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেন জাতীয় মহাসড়ক করার জন্য বরিশাল নগরীর মধ্যে প্রায় ১২ কিলোমিটার নিয়ে জটিলতা চলছে। বিষয়টি নিয়ে মতামত গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে সওজের নিজস্ব জরিপ উপস্থাপন করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, নগরীর মধ্যের বর্তমান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার অংশের জন্য শুধু জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। বাইপাস সড়ক হলে খরচ কমে দাঁড়াবে ৮১৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটির দূরত্ব ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। এজন্য কীর্তনখোলায় আরও একটি সেতু নির্মিত হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ খরচ বেড়ে এক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

উপসচিব মো. শামিমুজ্জামান সভায় বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলে আগামী বছরের যে কোনো সময় বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হবে।

বিষয় : ফরিদপুর-কুয়াকাটা চার লেন

মন্তব্য করুন